দেবী দুর্গা এবার দোলায় চড়ে আসছেন মর্ত্যে





শেয়ার

সৈকত প্রকৃতি:  'যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরুপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নম নমঃ।'

কৈলাস থেকে দেবী দুর্গা মর্ত্যে আসেন বাবার বাড়িতে প্রতি বছর। যার কারণে দেবীর কৃপা ধন্য হন সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষেরা।

 

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির দেওয়া তথ্য মতে এবার চট্টগ্রাম মহানগর এর আওতাধীন ২৭০ টি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে, পূজোয় অংশগ্রহণ করছে ১৬ টি থানা।

 

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি এডভোকেট চন্দন কুমার তালুকদার বলেন- করোনার প্রভাব থাকার কারণে এবার পূজোর মূল আনুষ্ঠানিকতা রেখে  প্রতিবারের তুলনায় এবার পূজোর অনুষ্ঠান সূচীর  কিছুটা সংশোধন ও পরিবর্তন করা হয়েছে।

 

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি যে ২৬ দফা নিয়মাবলি দিয়েছে তা আঞ্চলিক এবং থানা  কমিটিকে পৌঁছে দিয়েছি লিফলেট আকারে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সবাই যাতে পূজা উদযাপন করে সেই বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

 

যাত্রা মোহন সেন হলের (জেএমসেন হল)

পূজার আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে রয়েছে- কবিয়াল কল্পতরু ভট্টাচার্য প্রতিদিন দিনের বেলায় জাগরণ পুঁথি পাঠ করবেন। পূজা, অঞ্জলি, শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা (১ দিন), গরীব ও দুস্থদের মধ্যে কাপড় বিতরণ কার্যক্রম রয়েছে। পূজোর আয়োজক এবং প্রতিমা দর্শনার্থীর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, সবাই যাতে স্বাস্থ্য বিধি মেনে পূজো মণ্ডপে প্রবেশ করে এবং বের হয় সেই বিষয়ে সবার মনোযোগী হতে হবে।

 

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী প্রকাশ দাশ অসিত বলেন, এবারের পূজোয় করোনার প্রভাব থেকে নিজে বাঁচবো এবং অন্যকে ও সুরক্ষিত রাখবো এই মন-মানসিকতা ধারণ করতে হবে। তিনি বলেন, সামাজিক দূরত্ব মেনে পূজা উদযাপন করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এবং নির্দেশনা গুলো যাতে সবাই যথাযথ ভাবে পালন করে সেই বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।

 

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন'র প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন -শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ধারাবাহিক ভাবে অতীতের মতো পূজোর সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের জন্য সার্বিক সহযোগিতা করবে। তবে করোনাকালীন পরিস্থিতির কারণে কিছুটা ব্যয় কমানো হয়েছে।

 

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর সংবাদ সম্মেলনে বলেন- করোনা কালীন পরিস্থিতির কারণে এবার কোন পূজা মণ্ডপে পুলিশ থাকবে না। মণ্ডপের বাইরে এবং শহরে টহলরত অবস্থায় পুলিশ থাকবে এবং আন্তরিকতার সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবেন।

 

সনাতন ধর্মাবলম্বী তরুণ প্রজন্মের পূজো আয়োজক রাজেশ চক্রবর্ত্তী বলেন- করোনার কারণে এবার সব কিছুতে একটু ঢিলেঢালা ভাব লক্ষ করেছি। দেবী দুর্গা মাকে বরণ করার জন্য আমাদের আন্তরিকতা ও ভক্তির কোন ঘাটতি নেই। তবে এবার পূজা মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অনুপস্থিতির বিষয়টা নিয়ে তিনি, একটু উদ্বিগ্ন প্রকাশ করেন। 

৫ কার্ত্তিক,২১ অক্টোবর বুধবার পঞ্চমী বিহিত পূজা ও দেবীর বোধনের  মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

৬ কার্ত্তিক,২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার,ষষ্ঠী।

৭ কার্ত্তিক, ২৩ অক্টোবর শুক্রবার সপ্তমী।

৮ কার্ত্তিক, ২৪ অক্টোবর শনিবার অষ্টমী।

৯ কার্ত্তিক, ২৫ অক্টোবর রবিবার নবমী।

১০ কার্ত্তিক, ২৬ অক্টোবর সোমবার 

শ্রী শ্রী শারদীয়া দুর্গাদেবীর দশমী বিহিত পূজার সমাপ্তির পর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

 

দেবী দুর্গা গজে গমন করবেন যার ফলে বসুন্ধরা শস্যপূর্ণা বা এবার দেশে ফসল ভালো হবে বলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস।

 

সব খবর


শেয়ার