আজকের সর্বশেষ


এবার ব্যাংকারের সঙ্গে পরীমনির ঘনিষ্ঠতার তথ্য!





শেয়ার

২০২০ সালের জুন মাসে পরীমনির সাদা রঙের হ্যারিয়ার গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। গণমাধ্যমে সে খবরও প্রকাশ পায়। তবে দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই সাড়ে তিন কোটি টাকা দামের রয়েল ব্লু রঙের মাসেরাতি বিলাসবহুল গাড়ির ছবি প্রকাশ করে পরিমনি জানান, এটি তার নতুন গাড়ি। মূলত এরপরই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। কোথা থেকে এত টাকা পান পরীমনি। তেমন কোনো হিট সিনেমায় অভিনয় না করেই এত বিলাসী জীবনযাপন করেন কিভাবে।

বোটক্লাবকাণ্ডে পরীমনির প্রেস কনফারেন্সে তার ফ্ল্যাটের ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর তা আবারও সমালোচনার জন্ম দেয়। বনানীর অভিজাত এলাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও ঘর সাজানো আসবাব পাঁচ তারকা হোটেলকেও হার মানাবে। এর কয়েক মাস আগে করোনার মধ্যেও পাঁচ তারকা হোটেল জমকালো জন্মদিনের আয়োজন করেও সমালোচিত হন পরীমনি।

  বোটক্লাবে নাসির উদ্দিন মাহমুদের দ্বারা নির্যাতন ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ করা পরীমনির এসব বিত্ত-বৈভব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মিডিয়ার অনেকেই। নাসিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে প্রেস কনফারেন্স করার কয়েকদিনের মাথায় অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস একটি এফএম রেডিওতে সাক্ষাৎকারে বলেন, একজন শিল্পী কত টাকা ইনকাম করলে পাঁচ কোটি টাকার গাড়ি চালাতে পারে, চার কোটি টাকার বাড়ি কিনতে পারে। দেশে কি দুদক নাই? দুদকের মনে কেন প্রশ্ন জাগে না? এই টাকাগুলো কোথা থেকে আসতেছে? কীভাবে আসতেছে? একজন শিল্পী কোথা থেকে এত টাকা পায়?
এর জবাবে ফেসবুক স্ট্যাটাসে পরীমনি লেখেন, ‘আজ এসব নিয়েও লিখতে হচ্ছে, ভাবতে কষ্ট হচ্ছে সত্যি। যখন বড় বড় সম্মানিত শিল্পীরাও পিছে রটানো গসিপ নিয়ে আমার দিকে আঙুল তুলতেও ছাড়লেন না আজ! একবার একটু জেনে নিতেই পারতেন চাইলে। যাই হোক, এসব এর একটু পরিত্রাণ দরকার এবার।’
ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনেছেন জানিয়ে পরীমনি লেখেন, ‘আমার একটি মাত্র হ্যারিয়ার গাড়ি। যেটি ব্যাংক লোনে চলছে। আমি একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে থাকি। আমি আমার আয়ের হিসেব সরকারের কাছে অবশ্যই প্রদান করি। আমি নিয়মিত একজন করদাতা।’
পরীমনি আরও লেখেন, ‘আমার কোনো ১০ কোটি টাকার বাড়ি বা ৫/৪/৩ কোটি (যেমন টা আপনারা বানালেন আরকি) টাকার গাড়িও নেই। আপনারা দোয়া করবেন, আমাকে নিয়ে আপনাদের এই মহান উচ্চ আশা পূরণ করব ইনশাআল্লাহ। মিথ্যা বা গুজব ছড়ানোর জন্য আপনারা কতটুকু জয়ী হলেন, ভেবে দেখবেন প্লিজ।’
তবে কয়েকদিন আগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পরীমনি ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে পরীমনির ব্যবহৃত ফিয়াট অটোমোবাইলসের ‘মাসেরাতি’ ব্র্যান্ডের সাড়ে তিন কোটি টাকার গাড়িটির বিষয় উঠে এসেছে। 

পরীমনি বলেছেন, পরীমনি গাড়িটি ব্যাংক লোন বা ক্যাশ টাকা দিয়ে ক্রয় করেননি। একটি চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনিই গাড়িটি পরীমনিকে উপহার দিয়েছেন। ওই ব্যাংকের চেয়ারম্যানের তথ্যও পেয়েছেন গোয়েন্দারা। তার বিষয়েও খোঁজখবর চলছে এবং গোয়েন্দা নজরদারিতে আছেন বলে জানা গেছে। 
  গতকাল শনিবার গোয়েন্দা পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। যত বড় ভিআইপিই হোক তারাও আইনের মুখোমুখি হবেন। এরই মধ্যে পরীমনি, পিয়াসা ও মৌ এর সাথে ব্যাংকের এমডি, চেয়ারম্যান, বীমা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ ব্যবসায়ীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।   উল্লেখ্য, গেল ১৩ জুন উত্তরা বোট ক্লাবে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমনি। পরদিন উত্তরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ। ৩০তম বিসিএসের কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েন গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগে কর্মরত। ওই সময় পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয় গোয়েন্দা কার্যালয়ে। তখনই পরীর সঙ্গে প্রথম পরিচয় সাকলায়েনের। এরপর সম্পর্কের গভীরতা।
গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র বলছে, ধীরে ধীরে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে পুলিশ কর্মকর্তা ও চিত্রনায়িকার। প্রায়ই রাতে গাড়ি নিয়ে ঘুরতে বের হতেন তারা। কখনো হাতিরঝিল। কখনো অন্য কোনো জায়গায়। মাঝে মাঝে সাকলায়েন যেতেন পরীমনির বাসায়।

সম্প্রতি র‌্যাবের হাতে পরীমনি গ্রেপ্তার হলে বনানী থানায় করা মাদক মামলার তদন্তভার পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তখন পরীকে জিজ্ঞাসাবাদে বের হয়ে আসে সাকলায়েনকাণ্ড। পরীমনির দাবির প্রেক্ষিতে সংগ্রহ করা হয় সাকলায়েনের সরকারি কোয়ার্টারের সিসিটিভি ফুটেজ। নিশ্চিত হওয়া যায় পরিমনির দাবির সত্যতা।

বিনোদন


শেয়ার