আজকের সর্বশেষ


আজ লিওনেল আন্দ্রেস মেসির জন্মদিন।





শেয়ার

 

আজ বা পায়ের ক্ষুদে যাদুকরের জন্মদিন।

 

জন্মের পরের সময়টা একেবারেই ভাল যায়নি তার। পৃথিবীতে এসেছিলেন একরাশ অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়ে। হাতে পর্যাপ্ত সুযোগ ছিল তাও বলা যাবেনা। হরমোনের কারনে এক শারীরিক সমস্যা, দশটা ছেলের মতো সমানভাবে বেড়ে না উঠতে না পারা, অনেক টাকার মামলা তাই একটা সময়ে গিয়ে ডাক্তারের চিকিৎসা না পেয়ে করে হাসপাতাল থেকে ফিরে আসা, তার মধ্যে স্টিল ফ্যাক্টরীতে কাজ করা জর্জের বেতনও ছিল কোনরকম, একার আয়ে সংসারও আর চলে উঠত না, স্ত্রী সিলিয়াও কাজ করতেন একটা কারখানায়। যেই স্বাস্থ্য বীমা করে কোনরকম কানাকড়ি ছিল, সেটা দিয়েও বেশীদিন এই চিকিৎসার খরচ চালানো সম্ভবও হয় নি।  

 

 এগুলো দেখে হঠাৎ ফুটবল দেবতা মৃদু হাসলেন ঘটনা বশত ভাগ্যক্রমে তার প্রতি নজরে আসে কাতালান রাজ্যের এক ক্লাবের। নাম তার বার্সেলোনা। সুদূর কাতালান রাজ্যের বার্সেলোনা থেকে একজন এসে চুক্তিতে সব ব্যয়ভার বহন করল। হাতের কাছে কাগজ না থাকায় টিস্যুতে কিনা চুক্তি হয়েছিল। অতঃপর সকল কিছু উপেক্ষা করে ইশ্বর যে তাকে তৈরিই করেছিলেন বা পায়ের ক্ষুদে যাদুকর হিসেবেই ফুটবল মাঠে যাদু দেখাবেন এটাই ছিল ইশ্বরের বিশ্বাস তা প্রমাণ পেল মানবজাতি।    

 

এরপর আর ফিরে তাকাতেই হয়নি, একদম ছোকরা ছেলে, নতুন এসেছেন ফুটবলে! এসেই সেদিন ৮০ হাজার বার্নাব্যুয়ের দর্শকদের স্তব্ধ করে দিয়ে জানান দিয়ে বললেন তোমরা ঘটা করেই বরন ডালা নিয়ে প্রস্তুত হও আমি আসছি! চারিদিকে সবাই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ, আমার সাথেও হয়ে গেল তার প্রথম পরিচয়!        

 

ফুটবল ক্যারিয়ারে মেসির প্রাপ্তি ও সাফল্যের শেষ নেই। অপ্রাপ্তি বলতে শুধু নিজ দেশ আর্জেন্টিনার হয়ে বড় কোন শিরোপা জিততে না পারা। এর খুব কাছাকাছি গিয়েছিলেন মেসি। ২০১৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ, ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকায় দলকে তুলেছিলেন ফাইনালে।     কিন্তু তিন ফাইনালের একটিতেও শেষ হাসি হাসতে পারেননি মেসি। তিনবারই আটকা পড়েছেন শেষ বাধায়। তবে ব্যক্তি খেলোয়াড় হিসেবে মেসি ছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল, ২০১৫ সালের কোপায় টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ৪ বার জেতেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। সেবার টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ছিল না। নয়তো তা পেতেন মেসিই।    

 

 পৃথিবীতে আর্ভিভাবের পর বর্ষ পঞ্জিকার পাতা পাল্টেছে ৩৪ বার, ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সৌভাগ্য হয়েছে ৩৫ বার! ক্যারিয়ারের ক্রান্তিলগ্নে এসে পড়েছেন! ২-১ বছর এরপর হয়তো বুটজোড়া তুলে বিদায় জানাবেন ফুটবলকে! তবে আপনাকে মনে পড়বে কতবার যে আপনার দলের জয় দেখার জন্য কত ঘুম ভাঙতে হয়েছে, রাত জেগেছি, চোখের নিচে কালো দাগ ফেলেছি! যখনই এগুলো মনে পড়বে আমিও নস্টালজিক হবো, স্মৃতির পাতায় স্বর্নাক্ষরে লেখা হরফে সব কিছু রোমন্থন করতে চাইবো! চশমার কাচে পড়তে পড়তে বাম্প জমে যাবে!৩০ নম্বর জার্সি গায়ে ক্যাম্প ন্যুর ঘাসে আবির্ভাব, সেই একবিংশ শতাব্দীর সময় শেষে আমিও পড়াশোনা প্রায় শেষ করে ব্যস্তজীবনে চাকুরীর বাজারের খুব সন্নিকটের খরিদ্দার, এখন বিদায়বেলা, পড়ন্ত বিকেল গোধুলিলগ্নবিদায়বেলা! এরপর হয়তোবা আপনিও দুই হাত তুলে ধন্যবাদ জানাবেন আপনার ইশ্বরকে আর সঙ্গী থাকবে আপনার ভক্তকূল! আহ জীবন! তুমি বড়ই সুন্দর!

 

ফুটবল


শেয়ার