আজকের সর্বশেষ

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হলেন চট্টগ্রামের সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম, ও যুগ্ম মহাসচিব কেফায়েতুল্লাহ কায়সার

চ্যানেল কৃষি সন্মাননা পেলেন লেখক ও সংগঠক শামছুল আরেফিন শাকিল

চ্যানেল কৃষি সন্মাননা পেলেন নির্মাতা ও অভিনেতা মোশারফ ভূঁইয়া পলাশ

আইএফআইসি ব্যাংক শিবের হাট উপশাখা উদ্বোধন

জাপান বুঝিয়ে দিলো ফুটবল শুধু পশ্চিমের নয়

বাকবিশিস'র ১০ জাতীয় সম্মেলন সম্পন্ন : ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার সভাপতি, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

অধ্যক্ষ শিমুল বড়ুয়া বাকবিশিস'র কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত

শিক্ষা উপকরণের মূল্য বৃদ্ধিতে বাকবিশিস'র প্রতিবাদ


দেশের সেরা বিদ্যাপীঠগুলোতে শিক্ষক ও ছাত্রদের মধ্যে বিরাজমান পরিস্থিতি





শেয়ার

আনোয়ারা আলম:

দেশের সেরা বিদ্যাপীঠগুলোতে শিক্ষক ও ছাত্রদের মধ্যে বিরাজমান পরিস্থিতিতে একটা প্রশ্ন বারে বারে মনের মাঝে উঁকি দেয়,পাবিলক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অবনতির দিকে ঠেলে দেওয়ার পেছনে ভিন্ন কোন চক্রান্ত চলছে কি?এক সময়ের প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই সুনাম এখন বিস্মৃতির অন্তরালে।ফলশ্রুতিতে অনেকে এখন তথাকথিত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ছে নানা অজুহাতে। অতএব ব্যাঙেরছাতার মতো যত্রতত্র প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় তথা শিক্ষা নামক পণ্য বেচাকেনার কারখানা। উচ্চ শিক্ষা অর্জনে শুধু বিত্তশালীরা না একই সাথে অনেক৷ মধ্যবিত্ত শ্রেণী প্রয়োজনে জমিজমা বিক্রি করে। 

একটা সময়ে প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ ছিল যা তাদের সামাজিক জীবনবোধ,রাজনৈতিক সচেতনতা, সাংগঠনিক তত্পরতা সহ সৃজন ও মননশীলতার বহুমাত্রিক চর্চার একটা সুযোগ করে দিত। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গঠনের লক্ষ্যে সংসদের নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের আসল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের কল্যাণ ও বিভিন্ন সমস্যার সমাধান। সব দলগুলোর মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের ব্যস্ত রাখাসহ সৃজন ও মননশীলতার চর্চা হতো নিয়মিত ভাবে। কোন রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি নয় বরং আদর্শটা ই ছিল বড়ো।কেন্দ্রীয় নেতা শুধু নয়,রাজনৈতিক নেতারা আসতেন।গোপনে স্টাডি ক্লাশ হতো-++বিষয়বস্তু -+দেশের স্বার্থ ও ভবিষ্যত।( নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে) ষাটের দশকের ছাত্র রাজনীতি শুধু নয় পাকিস্তান নামক একটি দেশ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এমন কি গনতান্ত্রিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।আদর্শগত বিভেদ থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সময়ের বিবর্তনে বন্ধ করে দেওয়া হলো ছাত্র রাজনীতি কিন্তু এর পরিবর্তে মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো শিক্ষক রাজনীতি -+,উদ্দেশ্য একটাই নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করা।অতএব নিজেদের কাজে ব্যবহার করা দলীয় ছাত্রদের। যাদের মথার ওপরে ছাতা হয়ে আছে তথাকথিত ক্ষমতায় আসীন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।  কারা এ ছাত্ররা! এরাও অশুভ শক্তির প্রতীক।যাদের দৌরাত্ম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে একেবারে শীর্ষ পর্যায়ে। ফলশ্রুতিতে মারামারি বা খুনোখুনি ও।এক ধরনের কষ্ট ও যন্ত্রণা। এখনে আছে একেবারে বিখ্যাত সুনামধারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও। কিছুদিন আগে সরকারি মেডিকেল কলেজে আর এইতো সেদিন ঢাকা কলেজের কিছু ছাত্রের তান্ডবলীলায় আমরা আহত ও ব্যথিত।  সবচেয়ে হতাশার হলো শিক্ষক বিভাজন।যাঁরা ব্যবহার করছেন কিছু ছাত্রদের। লক্ষ্য একটাই। নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করা। শিক্ষকরাতো একাডেমিক ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবেন,যাঁরা ছাত্রদের দ্বিতীয় অভিভাবক। একজন শিক্ষাবিদের ভাষায়-++The world seldom notices who teachers are --but civilization depends on what they do" মমতা ও স্নেহের মেলবন্ধন ঘটিয়ে তাঁরা সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে শিক্ষার্থাীদের শিক্ষা দেন আর নিরপেক্ষ শিক্ষক স্হান করে নেন মনের মাঝে দেবতার আসনে। শিক্ষকেরা কেন গ্রুপিংয়ে! কেন দলীায় কোন্দলে!  কেন ক্ষমতার দ্বন্দ্বে! কেন ছাত্রদের সঠিক পরিচালনায় ব্যর্থতা!একের পর এক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যায় নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আর শুরু হয়ে যায় উপাচার্য সরানোর আন্দোলন!  উপাচার্য কারা! কয়জনের নিজের যোগযতায় আসা! কয়জনে দলীয়করণের মাধ্যমে  অতএব তিনি বা তাঁরাও নিরপেক্ষ নন। ক্ষমতা ছাড়া দূরের কথা!  বরং ক্ষমতার অপব্যবহার!  হায়! অবসরে গিয়ে তাঁরা কি তৃপ্ত থাকেন!! নিজেদের অপকর্মের দিকটা কি তাঁদের মনকে পোড়ায় না!! দুঃখের সাথে বলতে হয় -++মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কি অপব্যবহার!  এটিকে স্লোগান হিসেবে নিয়ে ক্ষমতার উৎস সন্ধানে ক্ষমতাশাীনদের পায়ের নিচে বসে থাকা!এই পদ কে ঘিরে কতো দলাদলি, সংঘাত বা কাদা ছোড়াছোড়ি!!!একজন শিক্ষক হিসেবে এসব আমার উপলব্ধির বাইরে একটা ক্ষতচিহ্নের মতো। সময় এসেছে গভীরভাবে ভাবার। নির্বাচিত ছাত্র সংসদ পদ্ধতি কি ফিরিয়ে আনা যায়না! এটি প্রয়োজন ভবিষ্যতের আদর্শ নেতৃত্বের জন্য। সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার জন্য। সত্যিকার অর্থে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ পদ্ধতি কিন্তু গনতান্ত্রিক চেতনা ও মানবিিক মূল্যবোধের স্ফুরণ ঘটাবে, একই সাথে সাংগঠনিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেবে। যদি ও বিষয়টি এখন অনেকটা জটিল। কারণ ক্ষমতার শীর্ষে যাঁরা আছেন তাঁদের সদিচ্ছার অভাবের সাথে স্বার্থের ও সংঘাত আছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন ক্ষমতাশাীন নেতাদের আন্তরিকতা ও  ঐক্যমত। শিক্ষকদেরও সমর্থন প্রয়োজন আর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন যিনি ক্ষমতার শীর্ষে আছেন। 

নিজের চেয়ার কে ধরে রাখার অকৌশলর চাইতে যদি তিনি বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে নিয়ে ঐক্যমত সৃষ্টি করতে পারেন তাহলে তো তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে ইতিহাসের পাতায়।

ফিচার


শেয়ার