আজকের সর্বশেষ

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হলেন চট্টগ্রামের সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম, ও যুগ্ম মহাসচিব কেফায়েতুল্লাহ কায়সার

চ্যানেল কৃষি সন্মাননা পেলেন লেখক ও সংগঠক শামছুল আরেফিন শাকিল

চ্যানেল কৃষি সন্মাননা পেলেন নির্মাতা ও অভিনেতা মোশারফ ভূঁইয়া পলাশ

আইএফআইসি ব্যাংক শিবের হাট উপশাখা উদ্বোধন

জাপান বুঝিয়ে দিলো ফুটবল শুধু পশ্চিমের নয়

বাকবিশিস'র ১০ জাতীয় সম্মেলন সম্পন্ন : ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার সভাপতি, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

অধ্যক্ষ শিমুল বড়ুয়া বাকবিশিস'র কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত

শিক্ষা উপকরণের মূল্য বৃদ্ধিতে বাকবিশিস'র প্রতিবাদ


মেরুদণ্ডওয়ালা একজন মাহবুব তালুকদারের বিদায়





শেয়ার

ইউনাইটেড হাসপাতাল। বুধবার বেলা ১টা। বর্ণাঢ্য, আলোচিত এক জীবনের সমাপ্তি। শেষ হয়ে গেছে ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের। ইন্তেকাল করেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার, খ্যাতিমান আমলা, কথাসাহিত্যিক  মাহবুব তালুকদার (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন। ম্যাসিভ হার্টঅ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার পর গতকাল বেলা ১২টার দিকে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব তালুকদারের জীবন ছিল বহুমাত্রিক। দায়িত্ব পালন করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহকারী প্রেস সচিবের।

বিজ্ঞাপন  

‘আমলার আমলনামায়’ লিখে গেছেন বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার কথা। শিল্প-সাহিত্যের নানা শাখায় রেখে গেছেন ছাপ। তবে পাঁচ বছর নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়টিই নিশ্চয় তার জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়। গণতন্ত্র এবং ভোটাধিকারের জন্য লড়ে গেছেন অসীম সাহসিকতায়। কমিশনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার লড়াইয়ে হেরে গেলেও সত্য বলায় কখনো পিছপা হননি। অতীতে একজন নির্বাচন কমিশনার মিডিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিলেন তার মেরুদণ্ড আছে। মাহবুব তালুকদারকে তেমন কোনো চেষ্টা করতে হয়নি। তার কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে গেছে তিনি একজন শক্ত মেরুদণ্ডের মানুষ ছিলেন।

 

নির্বাচন কমিশনে কী ঘটে গেছে তাও লিখে গেছেন মাহবুব তালুকদার তার অপ্রকাশিত বইয়ে।  সাবেক নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের জানাজা ও দাফনের বিষয়ে গতকাল রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। মাহবুব তালুকদারের মেয়ে আইরিন মাহবুব জানিয়েছেন, তার বাবার মরদেহ আপাতত বারডেম হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হবে। তার দুই ভাইবোন বিদেশে আছেন। মাহবুব তালুকদারের মৃত্যুর খবর পেয়ে তারা ইতিমধ্যে দেশের পথে রওনা হয়েছেন। তারা দেশে ফিরলে জানাজা ও দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। মাহবুব তালুকদারের তিন সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে ঢাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গেই থাকেন। বাকি দুজন থাকেন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায়। মাহবুব তালুকদারের জন্ম ১৯৪২ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায়। তার স্ত্রীর নাম নীলুফার বেগম। নবাবপুর হাইস্কুল, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে পড়ালেখা শেষ করে তখনকার জগন্নাথ কলেজ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করেন মাহবুব তালুকদার। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি কিছুদিন সাংবাদিকতাও করেছেন। 

১৯৭১ সালে তিনি মুজিবনগর সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। সে সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন মাহবুব তালুকদার। ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট আবু সাঈদ চৌধুরী তাকে উপ-সচিবের পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতির ‘স্পেশাল অফিসার’ নিযুক্ত করেন। এরপর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ উল্লাহর সময়ে তার পাবলিক রিলেশনস অফিসার ছিলেন মাহবুব তালুকদার। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিলে তার সহকারী প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালন করেন মাহবুব তালুকদার। তখনই তিনি ক্যাডার সার্ভিসে অন্তর্ভুক্ত হন, যা পরে বিসিএস প্রশাসন হিসেবে রূপান্তরিত হয়। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করা মাহবুব তালুকদার ১৯৯৯ সালে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে অবসরে যান। মাহবুব তালুকদার লেখালেখিও করতেন নিয়মিত। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, স্মৃতিকথা, ভ্রমণ কাহিনী মিলিয়ে তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৪৭টি। শিশু সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান তিনি। মানবজমিন ও জনতার চোখ-এ তিনি ‘চাচার পাঁচালী’ শিরোনামে নিয়মিত লিখতেন।

 

জাতীয়


শেয়ার