আজকের সর্বশেষ

সভাপতি- খায়রুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক- কেফায়েতুল্লাহ কায়সার। জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা চট্টগ্রাম বিভাগের নতুন কমিটি

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হলেন চট্টগ্রামের সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম, ও যুগ্ম মহাসচিব কেফায়েতুল্লাহ কায়সার

চ্যানেল কৃষি সন্মাননা পেলেন লেখক ও সংগঠক শামছুল আরেফিন শাকিল

চ্যানেল কৃষি সন্মাননা পেলেন নির্মাতা ও অভিনেতা মোশারফ ভূঁইয়া পলাশ

আইএফআইসি ব্যাংক শিবের হাট উপশাখা উদ্বোধন

জাপান বুঝিয়ে দিলো ফুটবল শুধু পশ্চিমের নয়

বাকবিশিস'র ১০ জাতীয় সম্মেলন সম্পন্ন : ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার সভাপতি, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

অধ্যক্ষ শিমুল বড়ুয়া বাকবিশিস'র কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত


সিলেট-সুনামগঞ্জে বাড়ছে পানি বাড়ছে শঙ্কা





শেয়ার

আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ঘরে ফিরতে না ফিরতেই ফের উৎকণ্ঠা সিলেট ও সুনামগঞ্জে। কেউ বা ফের আশ্রয়ের খুঁজে ঘর ছেড়েছেন। দু’দিন ধরে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে যতটুকু পানি নেমেছিল ততটুকু আবার পূর্ণ হয়েছে। এ অবস্থায় দুর্ভোগও বাড়ছে। সালুটিকর এলাকার বাসিন্দা আলেয়া খাতুন। প্রবল ঢলের কারণে তিনি ১৬ই মে সাঁতরে উঠেছিলেন আশ্রয়কেন্দ্রে। টানা ১০ দিন স্কুলে অবস্থান করেন। পানি নামায় গত মঙ্গলবার বাড়ি ফিরেন। ঘর বিধ্বস্ত। এরপরও তিনি বসবাসের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

গতকাল দুপুরে আলেয়া বেগম ফের কোমর  পরিমাণ পানি ঠেলে নিরাপদে ছুটছিলেন। জানালেন- ‘তিন দিন আগে বাড়ি গিয়েছিলাম। ঘরে পানি উঠে গেছে। এখন আবার আশ্রয়কেন্দ্রে উঠতে হবে।’ একই অবস্থা গ্রামের আব্দুল খালেকের। সড়কের পানি ডিঙ্গিয়ে উঁচু স্থানে ফিরছিলেন। পেছনে পড়ে থাকা বাড়িঘর পানিতে নিমজ্জিত। তিনিও জানান, ফের ঘরে পানি। বসবাস করা যাবে না। উঠতে হবে আশ্রয়কেন্দ্রে। শুধু আলেয়া কিংবা আব্দুল খালেক নয়, সিলেটের লাখ লাখ মানুষ গতকাল সকাল থেকে ফের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়। নতুন করে জেগে ওঠার আশায় বাড়ি ফিরছিলেন তারা।

 

 কিন্তু উজানের ঢল এসে আবার ভাসাতে শুরু করেছে বাড়িঘর। এরই মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকা। সারি- গোয়াইনঘাট সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এমনিতেই বন্যাকবলিত সিলেট। কুশিয়ারা অববাহিকার তীরবর্তী ৬ উপজেলার বাড়িঘরে এখনো পানি। পঞ্চাশ হাজারের অধিক মানুষ বসবাস করছেন আশ্রয়কেন্দ্রে কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। পানি কমতে শুরু করায় আশায় বুক বেঁধেছিলেন ঈদের আগে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু এখন তাদের  সেই আশায়ও গুড়েবালি। সিলেট সদর সহ সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাটের মানুষ বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন। উজানের ঢলে এক রাতেই তাদের ভাসিয়েছিলো। কেউ এক সপ্তাহ আবার কেউ কেউ ১০ দিন পর বাড়ি ফিরেছিলেন। যারা ঘরবাড়ি হারিয়েছিলেন কেবল তারা ছিলেন আশ্রয়কেন্দ্রে। কিন্তু বাড়িফেরা লাখো বাসিন্দা ফের পড়েছেন বিপদে। বাড়ছে পানি। কোথাও এক ফুট, আবার কোথাও দুই ফুট। বাড়িঘরও ডুবতে শুরু করেছে। কেউ কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে এলেও এখনো বাড়িতে থাকা অনেক মানুষ রয়েছেন আশ্রয়কেন্দ্রে আসার অপেক্ষায়। 

পানি বাড়লেই ছুটতে হবে আশ্রয়ে, এমন আশঙ্কায় তারা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেনও। কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও লুসিকান্ত হাজং গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পানি বাড়ছে। কিন্তু এখনো বেশির ভাগ মানুষ বাড়িতেই আছেন। যদি পরিস্থিতির অবনতি হয়, তাহলে ৬টি ইউনিয়নের জন্য ৪৮টি ইঞ্জিন নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পানিবন্দি মানুষজনকে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হবে। এখন যারা সহায়তা চাচ্ছেন তাদের সহায়তা দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। কোম্পানীগঞ্জ সদর হাসপাতালের নতুন ভবন আশ্রয়কেন্দ্র ও এম সাইফুর রহমান আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরেননি অনেক পরিবার। দুই সপ্তাহ ধরে তারা সেখানে আছেন। বাড়িঘরে এখনো পানি, এ কারণে তারা বাড়ি ফিরতে পারছেন না। আবার অনেকেরই ঘর ভাসিয়ে নিয়েছে বানের পানি। এ কারণে আশ্রয়কেন্দ্রেই অবস্থান করছেন। হাসপাতাল আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দা দক্ষিণ বুরগাঁওয়ের আব্দুল হেকিম জানিয়েছেন, এখনো বাড়িতে পানি। ঘর নেই, ঢল ভাসিয়ে নিয়েছে। যাবো কোথায়? আব্দুল মোতালেব জানিয়েছেন, অনেকে ফের আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছেন। বাড়িঘরে দ্বিতীয় দফা পানি উঠে যাওয়ার কারণে তারা নতুন করে আশ্রয়ে এসেছেন।  কোম্পানীগঞ্জের পাশের উপজেলা সিলেট সদর। 

সেটি অবশ্য সীমান্তবর্তী না। তবে- কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ডুবলে তলিয়ে যায় সিলেট সদরের ভাটির এলাকাগুলো। সদরের হাটখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুজ্জামান মানবজমিনকে জানিয়েছেন, তার এলাকার ২২টি আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ বাড়ি ফিরেছেন। এখন নতুন করে ওঠার জন্য অনেকেই যোগাযোগ করছেন। আমরা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করে রাখছি। গতকাল প্রায় দেড়ফুট পানি বেড়েছে। ফলে অনেক এলাকা ফের পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। রাস্তাঘাটে ফের আঘাত  হেনেছে উজানের ঢল। ফলে মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন বলে জানান তিনি। গোয়াইঘাটের ইউএনও তাহমিলুর রহমান গতকাল বিকালে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গোটা ইউনিয়নে উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য ১০০ নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পানি বাড়ছে। এ কারণে মানুষজনের বাড়িঘরে পানি ঢুকছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে অবশ্যই ১১৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেয়া হবে। তবে হাওর এলাকার মানুষ এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন বলে জানান তিনি। 

এদিকে গোয়াইনঘাটের পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের পাঁচপাড়া গ্রামের বাসিন্দা খয়রুন্নেছা জানিয়েছেন, পানি বাড়ায় পরিস্থিতি আগের মতো হতে শুরু করেছে। গ্রামীণ রাস্তাঘাট সব পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জৈন্তাপুরের গর্দনা গ্রামের আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, তাদের এলাকা নিম্নাঞ্চল। শতাধিক বাড়িঘরে ১৫ দিন ধরে পানি। এ জন্য স্থানীয় খাজার মোকাম উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র সহ কয়েকটি কেন্দ্রে বন্যার্তরা রয়েছেন। অর্ধেক পরিবার বাড়ি চলে গিয়েছিল। গতকাল থেকে বাড়িঘরে পানি উঠে যাওয়ার কারণে ফের আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছেন। বর্তমানে ওই আশ্রয়কেন্দ্রে ৪০ থেকে ৪২টি পরিবার রয়েছে বলে জানান তিনি। গর্দনা আনোয়ারপুর স্কুলেও বন্যার্তরা উঠেছেন। জৈন্তাপুর উপজেলার ইউএনও আল বশিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘তার উপজেলায় অর্ধশতাধিক আশ্রয়কেন্দ্র ছিল। এর মধ্যে ৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো মানুষ রয়েছে। পানি বাড়ছে, আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। যদি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠতে চায়, আমরা ব্যবস্থা করে দেবো।’ ছাতারখাই গ্রামের নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ছাতারখাই প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছাতাই মাদ্রাসা ও স্থানীয় আমিনা-হেলালী স্কুলের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষজন বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু গতকাল থেকে ফের সেখানে লোকজন উঠতে শুরু করেছেন। 

আমিনা- হেলালী স্কুলে মাসুক মিয়া, মনোয়ারা বেগম ও পিয়ারা বেগমের সহ ১০-১২টি পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। বাড়িঘরে পানি উঠে যাওয়ার কারণে তারা আবার চলে এসেছেন। কানাইঘাটেও বাড়ছে পানি। স্থানীয় বড় চতুল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নে কেউ দোকানে, কেউ অন্যর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তারা বাড়ি গেছে। পানি বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে মানুষ আশ্রয় খুঁজছে। রাতে পানি বাড়লে আজ থেকে হয়তো মানুষকে ফের আশ্রয়ে উঠতে হবে। জকিগঞ্জেও বাড়ছে কুশিয়ারা নদীর পানি। বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী এলাকায় নতুন করে পানি বেড়েছে। স্থানীয় তিরাশী গ্রামের বাসিন্দা হাসান আহমদ গতকাল বিকালে জানিয়েছেন, সুলতানপুর ইউনিয়নে ৬টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। পানি কিছুটা নামায় কয়েকটি পরিবার বাড়ি ফিরেছেন। আবার তারা আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা করছেন হাসান আহমদ। ওঠানামা করছে বন্যার পানি: সিলেটে ওঠানামা করছে বন্যার পানি। দিনে কমলে রাতে ফের বাড়ে।  থেমে থেমে বৃষ্টিও হচ্ছে। এতে করে সহসাই বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি আশা করা যাচ্ছে না। পাউবো’র কর্মকর্তারা বলছেন, সিলেটের পানি নামার জায়গা নেই। ভাটিতেও বন্যা। 

এজন্য বন্যার পানি নামছে না। আর ঢল নামলে পানি বাড়ে। বুধবার থেকে উজানের ঢল ও বৃষ্টি অব্যাহত থাকার কারণে পানি বাড়ছে। তবে সেটি পূর্বের মতো তীব্রগতিতে নয়। ধীরে ধীরে পানি বাড়ছে। কুশিয়ারা তীরবর্তী ৬টি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও বৃহস্পতিবার বৃষ্টিও ঢলে আগের জায়গায় চলে এসেছে। আর ঢল আসা অব্যাহত থাকায় কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুরে কোথা কোথাও এক ফুট পানি বেড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বৃহস্পতিবার দুপুরের পরিমাপ মতে- সিলেটে কানাইঘাটে সুরমা, জকিগঞ্জের অমলসীদে কুশিয়ারা, বিয়ানীবাজারে শ্যাওলা ও ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিলো। সিলেট নগরে বুধবার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলেও বৃহস্পতিবার নিচে নেমে এসেছে। ফলে নগরের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম নিলয়পাশা জানিয়েছেন, উজানের ঢলে পানি বাড়ে। আবার ঢল কমলে কিছুটা কমেও যায়। এতে করে বুঝা যাচ্ছে পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। আর সিলেট জেলার পানি নামে সুনামগঞ্জ দিয়ে। কিন্তু সুনামগঞ্জেও পানি। এ কারণে নামতে সময় লাগছে। সিলেটে প্রায় ৫ লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত: এবারের ভয়াবহ বন্যায় সিলেটে প্রায় প্রায় ৫ লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছেন,  সিলেট জেলায় মোট আশ্রয়কেন্দ্র হচ্ছে ৪৩৯টি।

 বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে ৩৭ হাজার মানুষ। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪০ হাজার ৯১টি। ইতিমধ্যে সরকারের তরফ থেকে ১৬১২ টন চাল, ২০২১৮টি শুকনো খাবারের প্যাকেট এসেছে। এ ছাড়া নগদ ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা ও প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে এসেছে ৬৫ লাখ টাকা। সেগুলো ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।  সুনামগঞ্জে ফের বন্যার শঙ্কা  ১৪ দিন ধরে বন্যার পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে বানভাসিরা ঘরে ফিরতে না ফিরতেই ফের সুনামগঞ্জে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চলমান বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে গত দুইদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে নদী ও হাওরে পানি বৃদ্ধি পেয়ে নতুন করে বাড়িঘরে পানি উঠতে শুরু করেছে। জেলা, উপজেলা ও গ্রামীণ রাস্তঘাট আবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভারি বৃষ্টি এবং হাওরের উত্তাল ঢেউয়ে হাওর পাড়ের বাড়িঘর তছনছ হয়ে যাচ্ছে। বন্যাকবলিত গ্রামবাসীদের গবাদিপশু, ধান, চাল ও নিজেদের জীবন নিয়ে উঁচু এলাকায় যেতে দেখা গেছে। বুধবার রাত থেকে বৃষ্টি হচ্ছে, থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আকাশে ঘন ঘন বজ্রপাতের গর্জন। চারিদিকে বৈরী আবহাওয়ায় অন্ধকার হয়ে আছে। তাহিরপুর উপজেলাসহ জেলার সবক’টি উপজেলার জেগে ওঠা ক্ষত বিক্ষত রাস্তাঘাট এবং বাড়ির উঠানে পানি উঠেছে এবং নিচু এলাকার ঘরে পানি প্রবেশ করছে। এছাড়া জেলার অধিকাংশ বাজার, মসজিদ,  স্কুল মাদ্রাসা, অফিস আদালতে নতুন করে পানি প্রবেশ করেছে।  তাহিরপুর গোলাবাড়ী গ্রামের  তোষা মিয়া বলেন, বন্যা আমার বাড়িঘর সব নিয়ে গেছে। আমি বড় অসহায় হয়ে পড়েছি। নতুন করে বাড়িঘর নির্মাণের সামর্থ আমার নেই।

 বালিয়াঘাট গ্রামের সুহেল বলেন, বন্যায় যে ক্ষতি হয়েছে তা সেরে ওঠা সম্ভব না, নতুন করে আবার বন্যা শুরু হয়েছে। সরকার যদি সাহায্য না করে তাহলে যাওয়ায় যায়গা নেই আমাদের। সুফিয়া নামে একজন বন্যা পরবর্তী সময়ে বানভাসিদের পুনর্বাসন করার দাবি জানান তিনি। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টায় বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন ভারতের আসাম মেঘালয় ও হিমালয় পাদদেশীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টা দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে। আবাহওয়া পূর্বাভাস ও ফের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভানভাসি মানুষের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৮৫ মিলিমিটার। ফলে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীসহ কয়েকটি নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।  সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, গতকাল বিকাল ৩টায় সুরমা নদীর পানি ২ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে ৭.৭৫ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, বন্যায় কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ করা হচ্ছে। আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে তালিকা আমাদের কাছে চলে আসবে। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা চলে আসলে পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করা হবে। জেলা-উপজেলায় সরকারি বেসরকারি খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় কম বলে জানিয়েছেন বানভাসিরা।

 

জাতীয়


শেয়ার