ডিজিটাল জনশুমারি শুরু





শেয়ার

দেশে আজ থেকে শুরু হচ্ছে ষষ্ঠ ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২’ কার্যক্রম। প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা হচ্ছে শুমারির কাজ। নিরাপত্তা ও সহজে তথ্য বিনিময়ের স্বার্থে দিনের বেলায় নিয়োজিত কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। গতকাল বিকালে এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানায় প্রকল্প পরিচালক (উপ-সচিব) মো. দিলদার হোসেন। ‘জনশুমারিতে তথ্য দিন, পরিকল্পিত উন্নয়নে অংশ নিন’ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রাথমিকভাবে ২১শে জুন রাত পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে। এবারই প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনশুমারি কার্যক্রম পরিচালিত হতে যাচ্ছে। একটি ওয়েবভিত্তিক ইনটিগ্রেটেড সেনসাস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইসিএমএস) প্রস্তুতসহ জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমে (জিআইএস) গণনা এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের কন্ট্রোল ম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে। ডিজিটাল এ শুমারি বাস্তবায়নে সারা দেশে একযোগে তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহার হবে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ট্যাব। মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত ট্যাবসমূহ এমডিএম সফটওয়্যার ব্যবহার করে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এ ছাড়া মাঠ পর্যায় থেকে সংগৃহীত তথ্য সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে গাজীপুর কালিয়াকৈরে স্থাপিত বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড (বিডিসিসিএল) এর টায়ার আইভি সিকিউরিটি সমৃদ্ধ ডেটা-সেন্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মাঠ পর্যায় থেকে বিডিসিসিএল হয়ে বিবিএস সার্ভারে আসার পূর্ব পর্যন্ত সংগৃহীত সকল তথ্য-উপাত্ত এনক্রিপ্ট অবস্থায় থাকবে যার মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করা হচ্ছে। 
জনশুমারির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে শুমারি কর্মী হিসেবে সারা দেশে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬৯৭ জন গণনাকারী, ৬৩ হাজার ৫৪৮ জন সুপারভাইজার এবং ৩ হাজার ৭৭৯ জন আইটি-সুপারভাইজার, ৩ হাজার ৭৭৯ জন জোনাল অফিসার, ১৬৩ জন জেলা শুমারি সমন্বয়কারী এবং ১২ জন বিভাগীয় শুমারি সমন্বয়কারী দায়িত্ব পালন করবেন। 

 

শুমারিতে সঠিক তথ্য দিতে উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক থিম সং, ক্রোড়পত্র, ডিভিসি, পিএসএ, জিঙ্গেল, টিভি টকশো, বিজ্ঞাপন, টেলিভিশন স্ক্রলিং দেশের সরকারি-বেসরকারি গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। জেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে স্থানীয় ক্যাবল টিভিতে জনশুমারি প্রচার, প্রচারসামগ্রী বিতরণ, ডকুমেন্টারি প্রচারসহ শুমারি চলাকালে মাইকিং করা হবে। 

জনশুমারি ও গৃহগণনার মাধ্যমে দেশের সকল সাধারণ খানা, প্রাতিষ্ঠানিক খানা ও বস্তি খানা, ভাসমান/ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী, খানার বাসগৃহের সংখ্যা ও ধরন, বাসগৃহের মালিকানা, খাবার পানির প্রধান উৎস, টয়লেট সুবিধা, বিদ্যুৎ সুবিধা, রান্নার জ্বালানির প্রধান উৎস, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, বৈদেশিক রেমিট্যান্স ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ ছাড়াও গণনাকারীগণ খানায় বসবাসরত সদস্যদের জনতাত্ত্বিক ও আর্থসামাজিক তথ্য যেমন- বয়স, লিঙ্গ, খানাপ্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক, বৈবাহিক অবস্থা, ধর্ম, প্রতিবন্ধিতা, শিক্ষা, কর্ম, প্রশিক্ষণ, মোবাইলফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার, ব্যাংক/মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, জাতীয়তা, নিজ জেলা ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন।

উল্লেখ্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় ১৯৭৪ সালে প্রথম আদমশুমারি ও গৃহগণনা পরিচালিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ বছর পর পর ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ এবং ২০১১ সালে যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম আদমশুমারি ও গৃহগণনা অনুষ্ঠিত হয়।

 

জাতীয়


শেয়ার