আজকের সর্বশেষ

গাজি মার্কেট তরুণ প্রবাসী ঐক্য পরিষদের আয়োজনে প্রথমবারের মতো মেধাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৩ সম্পন্ন

চট্টগ্রামে দৈনিক ভোরের দর্পণের ২২ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান

সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখায় সম্মাননা পদক পেলেন রিয়াদুল মামুন সোহাগ

দৈনিক ভোরের দর্পণ পত্রিকার ২৩ বছর পূর্তিতে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা

শত বয়সী মাওলানা রফিক উল্লাহ'র ইন্তেকাল

বার্ষিক শুকরানা মাহফিল, পুরস্কার বিতরণ ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

বেসরকারি পর্যায়ে করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবায় অসামান্য অবদানের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর কতৃক চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালকে সম্মাননা স্মারক প্রদান......

রোটারী ক্লাব অব চিটাগাং সাগরিকার বার্ষিক সভা সম্পন্ন


সিনহা হত্যা মামলার রায় আজ





শেয়ার

বহুল আলোচিত সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার রায় প্রকাশ করা হবে আজ সোমবার। ঘটনার প্রায় ১৮ মাস পর রায়ের দিন ধার্য করেন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাঈল।
গত বছর ২৭শে জুন আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটির বিচারকাজ শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষীদের জবানবন্দি, জেরা ও আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আজ সোমবার ঘোষণা করা হবে মেজর সিনহা হত্যা মামলার রায়। ১২ই জানুয়ারি দেশের বহুল আলোচিত এ মামলার যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য এই তারিখ নির্ধারণ করেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইসমাঈল আজ এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

আলোচিত এই মামলায় বাদী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ সাক্ষী ছিলেন ৮৩ জন। এর মধ্যে প্রথম দফায় গত ২৩ থেকে ২৫শে আগস্ট পর্যন্ত তিনদিনে মামলার বাদী ও সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস এবং ২ নম্বর সাক্ষী ঘটনার সময় সিনহার সঙ্গে গাড়িতে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাত সাক্ষ্য দেন। দ্বিতীয় দফায় চারদিনে সাক্ষ্য নেয়া হয় চারজনের, তৃতীয় দফায় তিনদিনে আটজনের, চতুর্থ দফায় দুই দিনে ছয়জনের, পঞ্চম দফায় তিন দিনে ১৫ জনের, ষষ্ঠ দফার তিনদিনে ২৪ জনের, সপ্তম দফার তিনদিনে পাঁচজনের এবং অষ্টম দফায় তিনদিনে তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ খায়রুল ইসলামের সাক্ষ্য দিয়ে ৬৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা হয়।

 

এরপর আদালত নবম দফায় ৬ ও ৭ই ডিসেম্বর ১৫ জন আসামির ৩৪২ ধারায় লিখিত ও মৌখিক সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

আলোচিত এ মামলার আসামিরা হলেন- বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, দেহরক্ষী রুবেল শর্মা, বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাগর দেব, এপিবিএনের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ, টেকনাফ থানায় পুলিশের দায়ের করা মামলার সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।

এ মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস, তদন্ত কর্মকর্তা ও র‌্যাব-১৫-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলামসহ ৬৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। এর মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী ও তদন্ত কর্মকর্তা এ হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত বলে আদালতকে জানান। এ মামলার বাইরেও সাক্ষীরা ওসি প্রদীপ কুমার দাশের দায়িত্ব পালনকালে টেকনাফে নানা নির্যাতনের বর্ণনা দেন আদালতে। সেদিনের নির্মম ঘটনা সাক্ষীরা সবিস্তারে আদালতে তুলে ধরেন।

এদিকে সিনহা হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপসহ ১৫ আসামির কী ধরনের সাজা হবে তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই জনমনে। টেকনাফ থানার ওসি থাকাকালে প্রদীপের রোষানলে নির্যাতিত শত শত পরিবারের চাওয়া একটাই প্রদীপ ও তার সহযোগীদের যেন ফাঁসি হয়। রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণের পর থেকেই বিশেষ প্রার্থনা ও রোজা রেখে সেই দোয়া করছেন টেকনাফের অসংখ্য ভুক্তভোগী পরিবার।

মামলার বাদী নিহত সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসের প্রত্যাশা, প্রধান দুই আসামি প্রদীপ-লিয়াকতের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক সাজা হবে। বাকি আসামিদের সাজা হোক যার যার অপরাধের ভিত্তিতে। এর মাধ্যমে একই সঙ্গে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডও বন্ধ হবে বলে আমি আশা করি। অপরাধী যেই হোক না কেন, অপরাধ করলে কেউ আইন ও সাজার হাত থেকে রেহাই পায় না- এ রায়ের মাধ্যমে সেটিই প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

সূত্র মতে, প্রদীপ কুমার দাশ টেকনাফ ওসি থাকাকালে মাদক নির্মূলের নামে ২২ মাসে ১৪৪টি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনার জন্ম দেন। তাতে মারা গেছেন ২০৪ জন। নিহতদের সবাইকে দেয়া হয়েছে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের তকমা। অথচ সাধারণ মানুষ বলছেন, ক্রসফায়ারে নিহতদের বেশিরভাই ছিল নিরীহ। টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের সন্ত্রাসী তকমা দিয়ে একই পরিবারের তিন ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করার অভিযোগ আছে প্রদীপের বিরুদ্ধে।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম বলেন, আদালতে মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্য এভিডেন্স তথ্য-প্রমাণে প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে পেরেছে আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মেজর সিনহাকে হত্যা করেছেন। তাই আদালতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করে রাষ্ট্রপক্ষ।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৩১শে জুলাই কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া শাপলাপুর পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন ফাঁড়ির ইনচার্জ লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের পর র?্যাব-১৫-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম একই বছরের ১৩ই ডিসেম্বর ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

জাতীয়


শেয়ার