খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী





শেয়ার

রোববার (২৭ জুন) বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের মানুষের অন্নের ব্যবস্থা করতে হবে। আগে খাদ্য নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের আজকের এই বাংলাদেশ গবেষণার ফলে সৃষ্টি হয়েছে। সে জন্য আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই, অভিনন্দন জানাই। আমাদের যারা কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আজকে বাংলাদেশ বিশ্বে ধান উৎপাদনে তৃতীয়, সবজি উৎপাদনে দ্বিতীয়, পাট উৎপাদনে দ্বিতীয়, চা উৎপাদনে চতুর্থ এবং আলু-আম উৎপাদনে সপ্তম স্থান অর্জন করতে আমরা সক্ষম হয়েছি।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কৃষকদের জন্য অনেক বেশি মূল্য দিয়ে সার ক্রয় করি বা উৎপাদন করি। এরপরেও আমরা কৃষকদের ভর্তুকি দেই, ভর্তুকি দিয়ে আমরা সারের দাম কমিয়ে যেমন ইউরিয়া ১৬ টাকা, টিএসপি ২২ টাকা, ডিএপি ১৬ টাকা ও এমওপি ১৫ টাকা আমরা ধার্য করে দিয়েছি এবং কৃষকদের হাতে আমরা পৌঁছে দিয়েছি।  এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ট্রাস্ট আইন ২০১৬, বীজ আইন ২০১৮, বালাইনাশক আইন ২০১৮, এবং সার ব্যবস্থাপনা সংশোধন আইন ২০১৮, উদ্ভিদজাত ও কৃষক অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০১৯ সহ মোট ১৫টি আইন ও সহায়ক নানা নীতি ও বিধিমালা আমরা প্রণয়ন করেছি বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। মোবাইল ফোন এখন সবার হাতে হাতে, কাজেই আমরা সেই মোবাইল ফোন এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে কৃষি তথ্য যাতে আমাদের কৃষকরা পেতে পারে বা যারা উৎপাদন করে তারা পেতে পারে, তার ব্যবস্থা নিয়েছি।    প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের জন্য আমরা কৃষি বাতায়ন এবং কৃষি কমিউনিটি রেডিও চালু করেছি। কারণ, আগে আমাদের বাংলাদেশে একটি সরকারি রেডিও ছিল। এখন আমরা বেসরকারি খাতে রেডিওসহ টেলিভিশিন উন্মুক্ত করে দিয়েছি। সেখানে কৃষির ওপর অনুষ্ঠান হয়। কোনো কৃষকের তথ্য প্রয়োজন হলে কৃষি বাতায়ন থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে সেই তথ্য সেবাটাও আমাদের দেশের কৃষক পাচ্ছে।    তিনি আরও বলেন, আমরা প্রথম মাত্র ১০ টাকায় একজন কৃষককে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছি। আর সেটা দেশের সবচেয়ে মঙ্গাপুরী এলাকা কুড়িগ্রাম থেকে শুরু করি। সেই সঙ্গে কৃষি উপকরণের যে টাকাগুলো সেটা তাদের কাছে সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যায় সেই ব্যবস্থাও আমরা করেছি।    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ইতোমধ্যে সার বীজসহ কৃষকের যা প্রয়োজন সেই টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষক পায়, উপকরণ কর পায়। প্রায় দুই কোটি ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৯ জন কৃষককে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৪১৩ দশমিক ৪৬ কোটি টাকার প্রণোদনা সরাসরি তাদের হাতে পৌঁছে দিয়েছে। কারণ, করোনার এই সময়ে যেহেতু দুরবস্থা সে জন্য আমরা এটার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।

জাতীয়


শেয়ার