করোনা ভ্যাকসিন: সমস্যা হবে না ভারতের নিষেধাজ্ঞায় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী





শেয়ার

দেশবিদেশ২৪ডেস্ক:  করোনার ভ্যাকসিন রফতানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ‘পুরো খবর’ এখনো অবহিত নন জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষই আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, আমাদের সঙ্গে ভ্যাকসিনের যে চুক্তি হয়েছে, তার ব্যত্যয় হবে না।

 

আমরা আশ্বস্ত যে এটা নিয়ে তেমন কোন সমস্যা হবে না, আশা করছি খুব শিগগিরই এর সমাধান হয়ে যাবে।

 

আজ সোমবার (৪ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে করোনা ভ্যাকসিন রফতানিতে ভারতে নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

 

গতকাল রবিবার অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন কোভিশিল্ডের জরুরি ব্যবহারে অনুমতি দিয়েছে ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (ডিসিজিআই)। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে, এই অনুমোদনের সঙ্গে ভারত সরকার শর্তারোপ করে দিয়েছে যে, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিরাম ইনস্টিটিউট অন্যকোন দেশে বা আভ্যন্তরীণ বেসরকারি বাজারেও এই ভ্যাকসিন বাজারজাত করতে পারবে না। এ নিয়ে সাক্ষাৎকারেও কথা বলেছেন সিরামের সিইও আদর পুনাওয়ালা।

 

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশেও উদ্বেগ তৈরি হয়। কারণ এই ভাইরাসের জন্যই এতদিন অপেক্ষায় রয়েছে সরকার। এরই মধ্যে বাংলাদেশী আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মা ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তিও করেছে সরকার। তাই বিষয়টি নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, ‘আপনারা অনেকেই জানতে চেয়েছেন ভ্যাকসিন আমরা কবে নাগাদ পাবো, আর আরেকটি বিষয় হল, ভারত সরকারের একটি নিষেধাজ্ঞা, যাতে বলা হয়েছে- ভ্যাকসিন রফতানি যেন না করা হয়। আমরাও এ বিষয় নিয়ে সকাল থেকে কাজ করছি। আমরাও জানতে পেরেছি, পুরোপুরি খবর অবহিত নই। আমরা ইতোমধ্যেই বেক্সিমকোর সঙ্গে আলোচনা করেছি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, ভারতে আমাদের যে মিশন রয়েছে, সেখানেও কথা হয়েছে, আমাদের মিশন আবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছে। ওনারা আশ্বস্ত করেছেন, ওনারা আমাদের সঙ্গে যে চুক্তি করেছেন, সেই চুক্তিটি ব্যহত হবে না।

 

ভারত সরকার কিছু জরুরি অনুমোদন দিয়েছে, তাদের দেশে কিছু ভ্যাকসিন প্রয়োগের জন্য, এ নিয়ে কাজও শুরু হয়েছে। একটি নিষেধাজ্ঞার কথা আপনারা জেনেছেন, আমরাও অতটুকুই জেনেছি- তারা সকল দেশের জন্যই এই নিষেধাজ্ঞাটি দিয়েছে যে, তারা আগে নিজেদের দেশে ভ্যাকসিন দেবে, তারপর অন্যদেশে যাবে। আমরা এ বিষয়ে নিয়ে এতগুলো যায়গায় আলোচনা করেছি। আমরা আশ্বস্ত যে, এ নিয়ে তেমন সমস্যা হবে না, আশা করি সমাধান হয়ে যাবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল মান্নান। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আমি এখনই যে ফোনটি করলাম, ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনরের সঙ্গে। আমরা যে চুক্তি করেছি, এটার ফিন্যান্সিয়াল কতগুলো ট্রান্সজেকশন, কীভাবে টাকাটা যাবে, কীভাবে ব্যাংক গ্যারান্টি দিবে! কাজটি হয়েছে জিটুজি বা সরকার টু সরকার। যে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার কথা ভারত সরকার বলেছে শুধুমাত্র কর্মাশিয়াল অ্যাকটিভিটিজের ওপর, আমাদেরগুলাতে না। কারণ আমাদেরটা সরকার টু সরকার।’

 

সময় মতোই ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আরেকটা জিনিস আমি বলি, কিছুদিন আগে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল বৈঠকের সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি নিজেই ৩ কোটি ভ্যাকসিনের কথা বলেছেন, যেটা আমরা। অর্থাৎ সরকার এটা জানে। আরেকটি পয়েন্ট আমাদের চুক্তির সময় ভারতের হাইকমিশনার নিজেই উপস্থিত ছিলেন। আমাদের যে বিষয়টা ছিল জি টু জি, ভারত যেটা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সেটা হল- ইন্টারনাল কমার্শিয়াল এক্টিভিটিজ হবে। এটা ক্লিয়ার করেছে হাইকমিশন থেকে।

 

জাতীয়


শেয়ার