আজকের সর্বশেষ


করোনায় মৃত্যু হার বাড়ছে যে কারণে





শেয়ার

করোনায় মৃত্যুর মিছিলের লাগাম কোনোভাবেই টানা যাচ্ছে না। প্রায় প্রতিদিনই করোনার মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। শনাক্ত কমলেও মৃত্যুর হার বাড়ছে দিন দিন। দেশে মোট শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার বর্তমানে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। যা গত এক মাস আগেও ছিল ১ দশমিক  ৩৯ শতাংশ। এই হার গত ১০ই আগস্ট ছিল ১ দশমিক ৩২ শতাংশ। দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় করোনায় একজনের প্রাণ নিচ্ছে।এখন পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৫২৪ জনের মৃত্যু হলো। করোনায় মৃত্যু বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, হাসপাতালে করোনা রোগী দেরিতে আসার কারণে এটা ঘটছে। যাদের বয়স বেশি এবং জটিল রোগে (কো-মরবিডিটি) ভুগছেন তাদেরকে বাসায় না থেকে হাসপাতালে আসার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা সংক্রান্ত অক্টোবর মাসের শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১লা অক্টোবর মৃত্যুর হার ছিল ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ২রা অক্টোবর এই হার বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। তা ৬ই অক্টোবর পর্যন্ত স্থির থাকে। এরপর ৭ই অক্টোবর তা বৃদ্ধি পেয়ে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশে দাঁড়ায়।
এদিকে সদ্য প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে শনাক্ত সংখ্যা প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় অনেক কম। আসন্ন শীতে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হয়েছে। বাংলাদেশে করোনার টেস্ট অনেক কম হয়েছে বলেও সংস্থাটি বলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতিজন করোনা রোগী শনাক্তের বিপরীতে ১০ থেকে ৩০ জনের টেস্ট করাতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশে করোনার টেস্ট অনেক কম হয়েছে। যার ফলে বাংলাদেশে প্রকৃত সংখ্যা জানার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বাংলাদেশ প্রতি এক লাখে ৫০ জনেরও কম করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। যা বৈশ্বিক হিসাবের তুলনায় অনেক কম।
গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনার নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে ঘণ্টায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৫ হাজার ৫২৪ জন। এরমধ্যে ঢাকা সিটিতেই (৯ই অক্টোবর পর্যন্ত) করোনায় মারা গেছেন ১ হাজার ৩৩৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৯৩ জন। এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা ৩ লাখ ৭৮ হাজার ২৬৬ জন। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪৯৫ জন এবং এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৯২ হাজার ৮৬০ জন। এতে আরো জানানো হয়, ১০৯টি পরীক্ষাগারে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৯ হাজার ৫০৪টি। নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৯ হাজার ৪৬৭টি। এখন পর্যন্ত ২০ লাখ ৭০ হাজার ৯৯৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং এখন পর্যন্ত ১৮ দশমিক ২৬ শতাংশ করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার  হার ৭৭ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। গত একদিনে মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ১৯ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী। এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর ৪ হাজার ২৫৬ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ২৬৮ জন নারী। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬০ বছরের উপরে ১৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১ জন এবং ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১ জন রয়েছেন। বিভাগ বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে দুইজন, খুলনার দুইজন, সিলেটে ১ জন, রংপুরে  ১ জন এবং ময়মনসিংহে ১ জন রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন ২৩ জন এবং বাসায় ১ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১২ হাজার ৮৮৩ জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪০ হাজার ৮২৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রান্ত ফোনকল সংখ্যা ৪২ হাজার ৫৩১টি এবং এ পর্যন্ত মোট ফোনকল সংখ্যা ২ কোটি ১৬ লাখ ৩৬ হাজার ২২২টি। দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর ৪১তম সপ্তাহে নমুনা পরীক্ষা ও সুস্থতার হার বাড়লেও শনাক্ত ও মৃত্যু ৪০তম সপ্তাহ থেকে হ্রাস পেয়েছে।

জাতীয়


শেয়ার