চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউ সংকট





শেয়ার

চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজনরা।      

 

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, গ্রামে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় প্রভাব পড়ছে শহরের হাসপাতালে। অক্সিজেন ও হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানেলার সরবরাহ স্বাভাবিক করা গেলে সমস্যা কাটানো সম্ভব বলে জানান সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি। চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। থামানো যাচ্ছে না মৃত্যুর মিছিলও।    

 

চট্টগ্রামে সরকারিভাবে জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ রয়েছে ১৮টি ও চমেকের ১২টি শয্যা রয়েছে। এ ছাড়া নতুনভাবে বিআইটিআইডিতে ৫টি আইসিইউ স্থাপন করা হয়েছে। সরকারি কোনো আইসিইউ বেড বর্তমানে খালি নেই। বেসরকারি হাসপাতালের ৫০টি আইসিইউ শয্যাও প্রায় ভর্তি।   

আইসিইউ শয্যার জন্য রীতিমতো হাহাকার চলছে নগরীতে বলে জানান চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. আবদুর রব। অবশ্য হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ সংকটের কথা স্বীকার করেছেন সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি।  

  তিনি আরও বলেন, আইসিইউ আমাদের সবসময় ৯০ ভাগ রোগী ভর্তি থাকে। কিন্তু বাকি রোগীদের যথাসাধ্য চেষ্টা করছি সেবা দেওয়ার জন্য। মানুষজন স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে এবং যথাসময়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে না আসার কারণে যে সমস্যাগুলো হচ্ছে সেটা আমাদের নিজেদের পর্যায় থেকে সমাধান করতে হবে।    

 

স্বাচিপের সমন্বয়কের মতে, নগরীর পাশাপাশি গ্রামগঞ্জেও করোনা সংক্রমণ মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় আইসিইউয়ের ওপর চাপ অনেক বেড়েছে।   

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের করোনাবিষয়ক সেলের সমন্বয়ক আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেন, উপজেলা পর্যায়ে রোগী তাদের যদি শহরে আসার প্রবণতাটা কমে যায় এবং উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালগুলোতে তাদের চিকিৎসা নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা যায়, তাহলে হয়তো নগরের হাসপাতালের আইসিইউতে যে চাপ পড়ছে সেটি কমে যাবে।    

 

গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রাম জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ১৯৫ জন। আর মারা গেছেন ৫৯ জন। চট্টগ্রামে গত বছরের ৩ এপ্রিল প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ৯ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম এক ব্যক্তি মারা যান।    

 

– পার্থ প্রতীম বিশ্বাস

চট্টগ্রাম


শেয়ার