‘নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস ব্যবহার ও সহজকরণে বিভ্রান্তি-জটিলতা নিরসন অপরিহার্য’





শেয়ার

বর্তমান সরকার বাংলাদেশে বিগত বছরগুলোতে বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে যা শতকরা হিসেবে প্রায় ৯২ শতাংশের বেশি। তবে ভবিষ্যৎ বাসযোগ্য, দূষণমুক্ত ও টেকসই পৃথিবী গড়তে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসের ব্যবহারের বিকল্প নেই। এজন্য আমাদের দেশে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসসমূহ বিশেষত তুলনামূলক সহজলভ্য উৎস সোলার প্যানেল ব্যবহার ও এর গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে ভুলধারণা সমূহ পরিবর্তন করা জরুরি। 

 

এসডিজি ইয়ুথ ফোরাম’র উদ্যোগে ও সামরাস ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরসের কারিগরি সহায়তায় এসডিজি-৭ ‘অ্যাফোর্ডেবল এন্ড ক্লিন এনার্জি’ শীর্ষক ভার্চুয়াল ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন। 

 

এসডিজি ইয়ুথ ফোরাম’র উদ্যোগে এসডিজি-৭ ‘অ্যাফোর্ডেবল এন্ড ক্লিন এনার্জি’ শীর্ষক ভার্চুয়াল ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ও সৌরশক্তির গবেষক, মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি তেনেগা ন্যাশনালের অধ্যাপক ড. নওশাদ আমিন। এসডিজি ইয়ুথ ফোরাম’র সভাপতি নোমান উল্লাহ বাহারের সভাপতিত্বে ও দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুর রহমান শিহাবের সঞ্চালনায় এসডিজি ইয়ুথ ফোরাম’র ফেইজবুক পেইজ থেকে আজ ২৪ মার্চ সরাসরি স¤প্রচারিত ভার্চুয়াল আলোচনায় প্যানেল আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মাহবুবুল আলম, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য মোহাম্মদ জাফর আলম, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের ভৌত বিজ্ঞান’র সদস্য মাসুদ কামাল, ভারতের বোম্বে মাদারস এন্ড চিলড্রেনস ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মাধব সাথ, তরুণ উদ্যোক্তা সুপিক আনোয়ার, লাইটার অফ লাইট বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সানজিদুল আলম শান্ প্রমুখ। 

 

ড. নওশাদ আমিন বলেন, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে সৌরশক্তির আধুনিকায়ন হচ্ছে এবং সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এর সম্ভাবনার দ্বার প্রসারিত হচ্ছে। ভবিষ্যত টেকসই, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব পৃথিবী গড়তে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসের যথোপযুক্ত ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি এবং এই বিষয়ে অভিজ্ঞ পরামর্শকদের অন্তর্ভুক্ত করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। নিউকিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের তুলনায় সৌরশক্তির গ্রহনযোগ্যতা সব দিক বিবেচনায় বেশি বলেও মত দেন সৌরশক্তির বিশ্বসেরা এই বিজ্ঞানী। 

 

জাফর আলম বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন উন্নত দেশগুলোতে তাদের পিক আওয়ার শুরু হয় সকালে যখন তাদের অফিসগুলোতে কাজ শুরু হয়। বাংলাদেশেও এরকম বৈপরীত্যের ধারা শুরু করা গেলে মানসম্মত ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসসমূহের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সমন্বয় সাধন জরুরি। 

 

মাহবুবুল আলম বলেন, বাংলাদেশে শিল্পের বিকাশ ও বহির্বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতায় তাল মিলিয়ে চলতে মানসম্মত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের গুরুত্ব অপরিসীম। ২০৩০ সাল নাগাদ এসডিজি-৭ সর্বোপরি এসডিজি অর্জন করতে হলে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসসমূহ ব্যবহারের মাধ্যমে বিশেষত দেশের পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর এলাকাগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহের আওতায় আনতে পারলে কাঙ্খিত সুফল আসবে।

 

চট্টগ্রাম


শেয়ার