‘নতুন বছরে সভ্যতার নতুন অবদান উপস্থাপন করছেন প্রধানমন্ত্রী’





শেয়ার

চট্টগ্রাম:  চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নতুন বছরে কোভিড-১৯ থেকে মুক্তির জন্য দেশবাসীর সামনে সভ্যতার নতুন অবদান উপস্থাপন করছেন। চলতি মাসের শেষে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন দেশে আসার কথা রয়েছে। ভ্যাকসিন নিয়ে আমরা আশাবাদি। এ বিষয়ে বিভ্রান্তির কোন সুয়োগ নেই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যকর পদক্ষেপের কারণে কোভিড-১৯ এ বাংলাদেশে ক্ষয়ক্ষতির পরমিান কম। 

 

তিনি আজ রোববার সকালে নগরীতে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেন। সভায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা.হাসান শাহরিয়ার কবির, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মো.হাবিবুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড.মো.শফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা.মো.আসিফ খান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শ্যামল কুমার নাথ, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক নুসরাত সুলতানা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.সেলিম আকতার চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড.গাজী গোলাম মাওলা, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও কোভিড ইউনিটের ফোকাল পারসন অধ্যাপক ডা. মো.আবদুস সাত্তার, চসিকের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো.আলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

 

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন সভাপতির বক্তব্যে আরো বলেন ১৮ বছর বয়সী কিশোররা করোনা ভ্যাকসিন পাবেন না এনিয়ে কিছু ভুঁইফোড় গণমাধ্যম যে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছেন সে ব্যাপারে দেশ ও নগরবাসীকে সজাগ থাকতে বলেন। তিনি কোন ধরণের গুজবে নগরবাসীকে কান না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন আমরা করোনা নিয়ে আশাবাদি।         

 

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা.হাসান শাহরিয়ার কবির তাঁর বক্তব্যে, সাধারণ তাপমাত্রায় করোনার ভ্যাকসিন সংরক্ষণ করা যাবে বলে জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসারে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলায় নিয়োজিত স্বাস্থ্য কর্মীগণ, সম্মুখ সারির কর্মীগণ, রোগ প্রতিরোধহীন ও ক্ষমতাহীন জনগোষ্ঠী এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে। ডা. হাসান শাহরিয়ার আরো জানান এখন পর্যন্ত করোনার আবিস্কৃত ভ্যাকসিন শতভাগ নিরাপদ। দ্রুততম সময়ে দেশে ভ্যাকসিন আনার উদ্যোগ নেয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

 

পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মো.হাবিবুর রহমান ভ্যাকসিন প্রদানে সাপ্লাই ও কোয়ালিটি ম্যানেজম্যান্ট নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, আমাদের দেখতে হবে চিকিৎসক, নার্স, ক্লিনারসহ সম্মুখ সারির কর্মীগণ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাতে ভ্যাকসিন পায়। তিনি সমস্ত ঝুঁকি নিয়েই এই ভ্যাকসিন কার্যক্রম দ্রুততর সময়ে শুরু করে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজম্যান্ট ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বন্টনের আহ্বান জানান।

 

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি যে গাইডলাইন দেয়া হয়েছে সে ভাবেই আমাদের ভ্যাকসিন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে হবে। জাতীয় কমিটির পরামর্শ মতে কার্যক্রম চলবে। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এরিয়ার কমিটিতে এনজিওসহ আরো তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে সংযুক্ত করতে বলেন। ভ্যাকসিন বিতরণ প্রক্রিয়ায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এরিয়ার কমিটিকে সেন্ট্রাল বা প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি কমিটির সাথে লিংক রাখার পক্ষে মত দেন তিনি।      

 

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক ভ্যাকসিন প্রথমে কাদের দেয়া হবে তাঁর একটি গাইড লাইন সরকারিভাবে দেয়া হবে বলে প্রত্যাশা করেন। তিনি নকল ভ্যাকসিন উৎপাদনের মাধ্যম প্রতারণা মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন।

ট্টগ্রাম জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা.মো.আসিফ খান, করোনার ভ্যাকসিন কারা পাবেন তাঁর যৌক্তিক প্রাপ্যতার জন্য চারটি বিষয়ের উপর জোর দেন। তিনি যে চারটি বিষয় উল্লেখ করেছেন তা হলো ১. রেশন্যাল, ২. ট্রান্সপারেন্সি অর্থ্যাৎ এনআইডি কার্ডের ভিত্তিতে ভ্যাকসিনের প্রদান, ৩.সার্ভিস ডিজাইন অর্র্থ্যাৎ ভ্যাকসিন কিভাবে দেয়া, রাখা ও যথাস্থানে পৌঁছানো হবে এর কার্যক্রম ও ৪.এসিউরেন্স অর্থ্যাৎ ধারাবাহিকভাবে এই ভ্যাকসিন সবায় পাবেন তার নিশ্চয়তা দেয়া। যাতে এ নিয়ে নগরবাসীর মাঝে কোন ভুল বার্তা না যায়।

 

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.সেলিম আকতার চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে ভ্যাকসিন প্রদান ও সংরক্ষণে কর্পোরেশনের সার্বিক প্রস্তুতি আছে বলে উল্লেখ করে বলেন আমাদের মোট ৭ টি স্টোর ও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য ও ইপিআই কর্মী রয়েছে। প্রয়োজনে তাদের আরো প্রশিক্ষিত করবো।        

 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও কোভিড ইউনিটের ফোকাল পারসন অধ্যাপক ডা. মো.আবদুস সাত্তার বলেন,ওয়ার্ল্ড হেলথ্ অর্গানাইজেশন (হু)’র নির্দেশনা অনুসারে যে কোন রাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ নাগরিক (সিনিয়র সিটিজেন) গণ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনার ভ্যাকসিন পাওয়ার অধিকার রাখে। সেই মতে রাষ্ট্রের সিনিয়র সিটিজেন হলেন ৬০, ৬৫ বছর ঊর্ধ্বে নাগরিকগণ। তিনি ভ্যাকসিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে বলেন। ডা. মো.আবদুস সাত্তার  জাতীয় কমিটির আলোকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় গঠিত কমিটির সদস্যদের ভ্যাকসিন প্রদানের পর এর মনিটরিং কার্যক্রম হোয়াটস্ এ্যাপে  গ্রুপ খুলে পারস্পরিক তথ্য আদান প্রদানের ওপর মত দেন। এতে যে কোন সিদ্ধান্ত দ্রুত নেয়া যাবে বলে উল্লেখ করেন এবং এ ব্যাপারে গণমাধ্যম জনস্বার্থে ইতিবাচক প্রচার প্রচারণা করবেন বলে প্রত্যাশা করেন।

 

উল্লেখ্য অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং আ্যাস্ট্রোজেনেকা কোম্পানীর যৌথ উদ্যোগে তৈরি ভ্যাকসিন বংলাদেশে সরবরাহ করবে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ভ্যাকসিনটি উৎপাদনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস বাংলাদেশ সরকারকে ৩ (তিন) কোটি ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে। 

 

চট্টগ্রাম


শেয়ার