‘চট্টগ্রাম বন্দর না হলে জাতীয় প্রবৃদ্ধি হতো না’





শেয়ার

চট্টগ্রাম: স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এম.পি বলেছেন, প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করেন বাংলাদেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে চট্টগ্রামকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ চট্টগ্রাম বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাকৃতিক বন্দর। চট্টগ্রাম বন্দর না হলে জাতীয় প্রবৃদ্ধি হতো না। বঙ্গবন্ধু তাঁর আরাধ্য সোনার বাংলা বাস্তবায়নে চট্টগ্রামকে নিয়েই স্বপ্ন দেখতেন। তিনি আরো বলেন, এই চট্টগ্রাম ২০৪১ সালে বিশ্বের উন্নত শহর হওয়ার সবচেয়ে বড় অবলম্বন এবং সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধির একমাত্র ঠিকানা।

 

আজ ২ জানুয়ারী শনিবার অপরাহ্নে রেডিসন ব্লু মেজবান হলে চীন সরকারের অনুদান হিসেবে এলইডি বাল্ব বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষনে তিনি এ কথা বলেন। চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে সরকারী  উদ্যোগ বাস্তাবায়নের চলমান গতিতে আশাবাদ ব্যাক্ত করে মন্ত্রী বলেন, সার্বিক উন্নয়নে সমঝোতা প্রয়োজন, ভুল বোঝাবুঝির কারণগুলো দূর করতে হবে। এজন্য সাপোর্ট ও ফিডব্যাক থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, মীরশ্বরাইতে ইকনমি জোন হচ্ছে। এখানে ৩০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এই উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক সৃমদ্ধির দার খুলে দিয়েছে। এই ইকনমি জোনে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের প্রয়োজন হবে। সব সংস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে এর যোগান দিতে হবে। তিনি হালদা নদীর অর্থনৈতিক গুরুত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, নদীটি পৃথিবীর অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র। এই নদী দিয়ে পানি সরবরাহ হয় ৩৭০ কিউসেক। এখান থেকে যদি ৩.৭ পয়েন্ট পানি উত্তোলন করা হয় তা হলে কোন সমস্যা হবার কথা না। 

 

মন্ত্রী বলেন, আমাদের সমুদ্র সীমার বিস্তৃতি বেড়েছে। এটা বঙ্গবন্ধু নিশ্চিত করে গেছে। ১৯৮২ সালে জাতিসংঘ সমুদ্র সীমা আইন নির্ধারিত করে গেছে। আমরা এই আইন বলে আমাদের সমুদ্র সীমা বাংলাদেশের মোট আয়তনের দ্বিগুন বৃদ্ধি করতে পেরেছি। তিনি আরো বলেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পায়রা বন্দর নিয়ে গণমাধ্যমে অনেক নেতিবাচক কথা হয়েছে। তবে কোনটাই সত্য নয়। এই দু’জায়গায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র হয়েছে। ভবিষ্যতে আর কখনো জ্বালানী সংকট থাকবে না। তিনি অনুরোধ জানান, ভুল বা বিকৃত তথ্য উন্নয়নের প্রতিবন্ধক। আবেগ বা খেয়াল বশে নেতিবাচক সমালোচনা আত্মঘাতী। একমাত্র গঠনমুখী দৃষ্টিভঙ্গি সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক। তাই চট্টগ্রামকে ইতিবাচক দৃষ্টিতেই আমরা দেখি। চট্টগ্রাম উন্নয়ন হলে সারা দেশ এর সুফল পাবে। মন্ত্রী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের প্রসংশা করে বলেন, খুব অল্পসময়ে খোরশেদ আলম সুজন চট্টগ্রাম নগরীর পরিস্কার পরিচ্চন্নতাসহ রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক উন্নয়ণ সাধন করেছে। যার সুফল ইতোমধ্যেই জনসাধারণ পাচ্ছে।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ৬৪ হাজার গ্রাম ও শহরের সুযোগ-সুবিধা প্রদানে যাকে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এমপি। তিনিই পারেন চট্টগ্রামের সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে। চট্টগ্রাম হবে সিঙ্গাপুরের চেয়ে উন্নত। চীনের কুমিং টাউন পর্যন্ত রেল ও সড়ক যোগাযোগ হয়ে গেলে এই নগরী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বেশি আলোকিত ও সমৃদ্ধ নগরী হবে। কর্ণফুলী-ট্যানেল হয়ে গেলে মূল শহরের পাশে আরো গুচ্ছ শহর গড়ে উঠবে। 

 

সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন বলেন, এলইডি বাল্ব বিতরণ চট্টগ্রাম থেকে শুরু করা হলো। আমরা চট্টগ্রামকে সর্বাগ্রে আলোকিত করতে চাই। চট্টগ্রাম আলোকিত হলে সারাদেশ আলোকিত হবে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে ১৩ লাখ সাড়ে ১২ হাজার এলইডি বাল্ব দিয়েছে চীন। বাংলাদেশ সরকারও চীন সরকারের মধ্যে প্রভিশন অফ গুডস ফর এড্রেসিং দ্যা ক্লাইমেট চেঞ্জ বিষয়ক সমঝোতা  স্বাক্ষর হয়েছিল। এর আওতায় অনুদান হিসেবে বাল্বগুলো প্রদান করেছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে ৪০ প্যাকেট বাল্ব অর্থ্যাৎ ৪ হাজার বাল্ব দেয়া হলো।

 

আরো বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম. এ সালাম, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, যুগ্ম সচিব ফারজানা ইসলাম প্রমুখ। পরে প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন ও তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাশের হাতে এলইডি বাল্ব হস্তান্তর করেন।

 

চট্টগ্রাম


শেয়ার



আরও পড়ুন