সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে বই তুলে দেয়া বিরল কৃতিত্ব





শেয়ার

চট্টগ্রাম:  চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের প্রায় সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের প্রথমদিন বিনামূল্যে পাঠ্য বই তুলে দেয়া বিশ্বের সবচেয়ে চকমপ্রদ বিরল সেবামূলক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফল্য ও অর্জনের মুকুটে একটি স্বর্ণময় পালক। এই করোনাকালে বিষাদগ্রস্থ শিক্ষার্থীর চিত্ত আজকের দিনটিকে বইয়ের প্রতিটি পাতার গন্ধে আনন্দময় হয়ে ওঠায় অভিভাবকদের মাঝে স্বস্তি ও তৃপ্তি এনে দিয়েছে। 

 

তিনি আজ শুক্রবার বিকেলে অপর্ণাচরণ সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের পৃথক পৃথক বই উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথাগুলো বলেছেন। তিনি আরো বলেন, বৈশ্বিক অতিমারিতে অন্যান্য খাতের মত শিক্ষাখাত ক্ষতিগ্রস্ত। তবে বাংলাদেশ সাহসিকতার সাথে করোনা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে এবং বিশ্বের যে ২০টি দেশ সাহসিকতার সাথে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সারা বিশ্বে বন্ধ এবং বাংলাদেশেও বন্ধ। তবুও বাংলাদেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ক্লাস রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। এর ফলে প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও শিক্ষাখাত একেবারে স্থিমিত হয়নি। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ৬০ টির বেশি বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কোন সিটি কর্পোরেশনে এতগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। এ জন্য বড় অংকের ভুর্তুকি দিতে হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন দিতে হচ্ছে। এই অবস্থায় হিমসিম খেলেও হাল ছাড়িনি আমরা। এই দায় বহনে তিনি সমাজের বিত্তবান এগিয়ে আসার অহ্বান জানান। 

 

কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল বলেন বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। তাই এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার মত পরিস্থিতি নেই। তবে ফেব্রুয়ারী মাসে সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ইঙ্গিত দেয়ায় আমরা আশাবাদী। আমরা আরো আশাবাদী জানুয়ারি মাসেই আমরা ভ্যাকসিন পাবো। তাই এ আঁধার কেটে যাবে এবং আমরা আবার স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবো। তার আগে নিজের সুরক্ষা নিজেকেই করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সরকারের নির্দেশনা অবশ্যই মেনে চলতে হবে। 

 

চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়–য়ার সভাপতিত্বে ও স্কুলের ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষিকা গৌরী দাশের সঞ্চালনায় অপর্ণাচরণ স্কুল ও কলেজের অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জারেকা বেগম, সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ ইসমাইল, স্কুল-কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য এ এস এম সাইফুদ্দিন, ওমর আলী ফয়সাল, স্কুলের পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কমিটির আহ্বায়ক মো.আলমগীর । 

 

মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়–য়ার সভাপতিত্বে ও প্রভাষক কানিজ ফাতেমার সঞ্চালনায় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান, সাদেক হোসেন পাপ্পু, স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক অমল কান্তি বড়–যা, কৃষ্ণকুমারী স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আহমদে হোসেন, মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক আব্দুল হক।

 

পরে প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দিয়ে বই বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছবি তোলেন।  

 

চট্টগ্রাম


শেয়ার