বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি নিয়ে ষড়যন্ত্রের বিষ দাঁত উপড়ে ফেলা হবে





শেয়ার

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি নিয়ে ষড়যন্ত্রের বিষ দাঁত উপড়ে ফেলা হবে বলে হুশিয়ার করে দিলেন চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

 

ধর্ম ব্যবসায়ী, উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী কর্তৃক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাস্কর্য অপসারণের হুমকির প্রতিবাদ ও হুমকিদাতাদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবীতে অপরাজেয় বাংলা, চট্টগ্রাম মহানগর শাখার আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শনিবার ২১ নভেম্বর বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সম্মুখে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে তিনি আরো বলেন, ধর্ম ব্যাবসায়ী, মৌলবাদী, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি সব সময়ই চেষ্টা করেছে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলতে। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের হৃদয়, বঙ্গবন্ধুকে বাঙালির হৃদয় থেকে কখনো মুছে ফেলা যাবে না।

৭৫ এর আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর স্বার্থলোভী বেনিফিসিয়ারী গোষ্ঠীর সাথে গাঁটছড়া বেঁধে বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে বিকৃত ইতিহাস প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন করতে চেয়েছে। দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম করে জনগনকে সাথে নিয়ে আমরা এ অপশক্তিকে প্রতিহত করেছি। শান্তির ধর্ম ইসলামকে হাতিয়ার করে, ধর্মের অপব্যাখ্যা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে আবারো অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে স্বাধীনতা বিরোধী গোষ্ঠী। তারা জাতির জনকের ভাষ্কর্য সরিয়ে ফেলার যে হুমকি দিয়েছে, এটি বাঙালি জাতীয়তার উপর হুমকি, বাংলাদেশের উপর হুমকি। তাদেরকে পরিস্কার ভাষায় বলতে চাই, যুদ্ধ করে স্বাধীন অর্জন করেছি। যার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করেছি, সে মহান জাতির পিতার স্মৃতি নিয়ে ষড়যন্ত্র হলে আমরা বসে থাকবনা। জনগনকে সাথে নিয়ে ষড়যন্ত্রের বিষ দাত উপড়ে ফেলা হবে।

 

সমাবেশে সভাপতিত্বে করেন অপরাজেয় বাংলা, চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ন আহ্বায়ক, নগর যুবলীগের সদস্য নুরুল আনোয়ার এবং সঞ্চালনা করেন অপরাজেয় বাংলা, চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য সচিব, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনি।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য জামশেদুল আলম চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ হাসান, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, অপরাজেয় বাংলা কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব এইচ রহমান মিলু, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমান্ত তালুকদার, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ.ন.ম মিনহাজুর রহমান, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, টিভি জার্নালিস্টস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও দীপ্ত টিভি বিভাগীয় প্রধান লতিফা আনসারী রুনা, সুচিন্তা চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক জিনাত সোহানা চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সদস্য মেজবাহ চৌধুরী মোর্শেদ, হেলাল উদ্দীন, শাখাওয়াত হোসেন স্বপন, সাবেক সদস্য আসহাব চৌধুরী, মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী নোবেল, কাজী রাজেশ ইমরান, ১৪নং লালখান বাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিল পদপ্রার্থী আবুল হাসনাত বেলাল, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ নেতা এমদাদুল হক রায়হান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুমেন বড়ুয়া, উপ-সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম, চান্দগাঁও থানা ছাত্রলীগ সভাপতি নুরুন্নবী শাহেদ, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম, মহানগর যুবলীগ নেতা জয় শংকর সরকার, সিটি কলেজ ছাত্রলীগ নেত্রী ফারজানা আক্তার মিশু।

 

বক্তারা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে কিছু ধর্ম ব্যবসায়ী বিরূপ মন্তব্য করছেন। তারা জানে না, ভাস্কর্য কী জিনিস, আর মূর্তি কী জিনিস। তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। জাতির পিতার এসব ভাস্কর্য দেখে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুকে জানবে। নতুন প্রজন্ম যখন এসব ভাস্কর্য দেখবে, তখন তারা বঙ্গবন্ধুকে জানবে। কীভাবে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে, বঙ্গবন্ধুকে না জানলে তা জানা যাবে না।
এ ধর্ম ব্যবসায়ীরা আমাদের বাংলাদেশের সৃষ্টি সম্পর্কে জানতে দিতে চায় না। সেজন্য তারা ভাস্কর্যকে মূর্তি হিসেবে উপস্থাপন করে দেশে একটা অরাজকতা তৈরি করতে চায়। তারা জানে না এ ব্যবসা বাংলাদেশে বন্ধ হয়ে গেছে। জঙ্গিবাদের ব্যবসা বাংলাদেশে বন্ধ হয়ে গেছে। হিংসা বিদ্বেষ ও সন্ত্রাসের জায়গা ইসলামে নেই। ইসলাম শান্তির ধর্ম। অতীতেও ধর্মীয় শিক্ষাটাকে বিকৃত করে, ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিপথে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
স্বাধীনতাবিরোধী, মৌলবাদীদের আস্ফালন দিন দিন বেড়ে চলেছে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তারা যে হুমকি দিয়েছে, এটা ভয়ঙ্কর। এটার প্রতিবাদ না করলে অসাম্প্রদায়িক জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্ব একদিন বিপন্ন হবে। মৌলবাদীরা লালনের ভাস্কর্য ভেঙেছে। তাদের চাপে সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে ভাস্কর্য সরানো হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মূর্তি ভাঙছে তারা। মৌলবাদীদের আর কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবেনা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবলীগ নেতা এস.কে মাহমুদ হিরু, আব্দুর রাজ্জাক, হোসাইন আহমেদ রুবেল, খোরশেদ আলম, সৈয়দ রবি, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক এহেসান চৌধুরী রিমন, রেজাউল করিম রিটন, শাহাদত সালাম শাওন, হুমায়ুন কবির রানা, তানভীর মেহেদী মাসুদ, আবদুল্লাহ আল নোমান, এনামুল হক মানিক, মনির ইসলাম, মায়মুন উদ্দিন মামুন, আনোয়ার পলাশ, মুজিবুর রহমান রাসেল, নোমান চৌধুরী রাকিন, ইসতিয়াক শুভ, শিবলী রহমান।

চট্টগ্রাম


শেয়ার