ক্রেতা ভোক্তা বিক্রেতা সবাইকে সচেতন হতে হবে





শেয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয় কর্তৃক ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার, কোতয়ালী, ইপিজেড ও হালিশহর থানায় এপিবিএন, ৯ এর সহযোগীতায় তদারকিমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সকাল ১০টা হতে পরিচালিত অভিযানে ৫ প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর বিভিন্ন ধারায় মোট ১লাখ সাঁইত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া অভিযানে খোলা স্থানে রক্ষিত খাদ্যদ্রব্য ধ্বংস, অননুমোদিত রং ফ্লেভার জব্দসহ একটি লিখিত অভিযোগও নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

 

অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ্, সহকারী পরিচালক (মেট্রো) পাপীয়া সুলতানা লীজা ও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান অভিযান পরিচালনা করেন।

 

অভিযানে কোতয়ালী থানার রিয়াজ উদ্দিন বাজার, ইপিজেড থানার ইপিজেড বাজারে আলু, পেঁয়াজসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের মূল্য তালিকা এবং পণ্য ক্রয় রশিদ পর্যবেক্ষণ করা হয়। ব্যবসায়ীদের নিত্যপণ্যের মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে অনুরোধ করা হয়। রিয়াজ উদ্দিন বাজারস্থ চট্টগ্রামের আলুর বৃহৎ পাইকারি বাজার পরিদর্শনকালে পাইকারি ব্যবসায়িরা সরকার নির্ধারিত দামে আলু বিক্রয় করতে প্রতিশ্রুতি দেন এবং মূল্য তালিকা সংশোধন করে ২৫ টাকা লিখেন।

 

অভিযানে দেখা যায়,রিয়াজ উদ্দিন বাজারের প্রবেশ মুখের খাজা সুইটসকে নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলা অবস্থায় খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ করায় খাজা সুইটসকে ১৭হাজার টাকা জরিমানা করে প্রায় ১০ কেজি জিলিপি ধ্বংস করা হয়। মক্কা সুইটস এন্ড বেকারিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রক্রিয়া করায় ১০হাজার টাকা, জব্বার সুইটসকে সংবাদপত্র ব্যবহার করে খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ ও রাস্তার পাশে ধুলাবালিপূর্ণ স্থানে জিলিপি সংরক্ষণ করায় ১৫হাজার টাকা জরিমানা করে বর্ণিত মিষ্টি ধ্বংস করা হয়। হালিশহর থানার সুন্নাহ মার্টকে উৎপাদন-মেয়াদ বিহীন পণ্য সংরক্ষণ করায় ১৫হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

 

এদিকে এক ক্রেতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুমিদস হট কেক কে লেবেল বিহীন রং ও ফ্লেভার ব্যবহার করে কেক প্রস্তুত এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কেক তৈরির উপকরণ রাখায় ৮০হাজার টাকা জরিমানাসহ লেবেল বিহীন উপকরণ (রং ও ফ্লেভার) জব্দ করা হয়।

 

অভিযানের মাধ্যমে এসব অন্যায় নির্মূল সম্ভব কিনা জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান প্রতিবেদককে বলেন,এটা শুধুমাত্র অভিযানের মাধ্যমে সম্ভব না ,স্থায়ী প্রক্রিয়া হিসেবে ক্রেতা ভোক্তা বিক্রেতা সবাইকে সচেতন হতে হবে। আমরা সবাই ভোক্তা। যতক্ষণ না নিজেরা সচেতন হবো ,ততক্ষণ পর্যন্ত অপরাধ নির্মূল সম্ভব নয়। মূল্য তালিকা না ঝুলানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মূল্য তালিকা না ঝুলালে তারা ভোক্তার কাছ থেকে ইচ্ছেমত দাম নিতে পারে। এতে ভোক্তাকে বেশী টাকা গুণতে হয় পণ্য কিনতে। এটা আসলে বহু বছরের অভ্যাস মূল্য তালিকা না ঝুলানোর,এখন অভ্যাসটা করিয়ে নিতে হচ্ছে ভোক্তাসাধারণের সুবিধার্থে।

 

 

চট্টগ্রাম


শেয়ার