আজকের সর্বশেষ


প্রত্যেক পণ্যের ‘মান’ নিশ্চিত করতে হবে





শেয়ার

চট্টগ্রাম: মানসম্মত পণ্য আমাদের সকলের কাম্য। মানহীন পণ্য বিক্রয় করা অত্যন্ত অপরাধ। মানুষ সবকিছু পরিচালনা করলেও মানুষের মান নির্ধারণ করার কেউ নেই। সকলে সচেতন না হলে শুধু মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে পণ্যের মান নির্ধারণসহ ভেজাল রোধ করা সম্ভব নয়। মান জিনিষটা হচ্ছে আপেক্ষিক। এসডিজির ১৭টি গোলের মধ্যে ১১টি গোল মান নিয়ে সরাসরি সম্পৃক্ত। সকলের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে খাদ্যপণ্যসহ প্রত্যেক পণ্যের মান শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক পণ্য মানসম্মতভাবে উৎপাদন  ও বাজারজাত করতে ব্যবসায়ী মহলকে আন্তরিক হতে হবে। বিএসটিআই’র অনুমোদিত ১৮২টি পণ্য থাকলেও এর বাইরে অনুমতি ব্যতীত আরো হাজার পণ্য রয়েছে। এগুলোর মান কেমন তা পরীক্ষাগাওে পরীক্ষা না করলে জানা যাবেনা। নিজে, পরিবার, সমাজ, দেশ ও পৃথিবীকে বাঁচাতে মানসম্মত পণ্যের কোন বিকল্প নেই। এজন্য সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরী।  আজ  ১৪ অক্টোবর ২০২০ ইং বুধবার সকালে বিশ্ব মান দিবস-২০২০ উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় অফিস আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এসব কথা বলেন। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে “পৃথিবী সুরক্ষায় মান”। 

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) মোঃ আবু হাসান সিদ্দিক বলেন, আমরা সকলেই ভোক্তা। পণ্যের মান নিশ্চিত করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মক সুস্থভাবে গড়ে উঠবেনা। পণ্যের মান নিশ্চিত করতে না পারলে বাসযোগ্য পৃথিবী গড়া সম্ভব নয়। এজন্য পণ্য ক্রয়ের পূর্বে মানের বিষয়টি অবশ্যই দেখতে হবে। পণ্যের  লেবেল বা মোড়কে  বিএসটিআই’র মান চিহ্ন দেখে নিতে হবে। ভেজাল প্রতিরোধে জনমত সৃষ্টি করতে হবে। 

 

বিএসটিআই চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সেলিম রেজার সভাপতিত্বে ও সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার সুরাইয়া সানজিদা চৌধুরী এবং ফিল্ড অফিসার শিমু বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠিত বিশ্ব মান দিবসের আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) মোঃ আবু হাসান সিদ্দিক, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মোঃ ফয়েজ উল্লাহ, কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রামের সভাপতি এস.এম নাজের হোসাইন ও দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক অহিদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিএসটিআই চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (মেট্টোলজি) শওকত ওসমান।   উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান,ক্যাব দক্ষিণ চট্টগ্রামের সভাপতি মোঃ আবদুল মান্নান, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস, ক্যাব পাঁচলাইশ শাখার সভাপতি সেলিম জাহাঙ্গীর, ট্রান্সকম বেভারেজ লিমিটেডের কোয়ালিটি কন্ট্রোল ম্যানেজার মোঃ আখতারুজ্জামান, সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের গবেষণা উপদেষ্টা জয়নাল আবেদিন রানা, ফুলকলি গ্রুপের জি.এম এম. এ সবুর, মধু গবেষক মাঈনুল আনোয়ার প্রমূখ। সভায় উদোক্তা, ভোক্তা, ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিক্রেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

 

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চট্টগ্রামের সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ওষুধ ও মাস্কের মান নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। খাদ্য, ওষুধ, নিত্যপণ্যে জরিমানার পাশাপাশি জেল দিতে হবে। যাকে জরিমানা করবেন তার অপরাধের তালিকা করে ফলোআপ করতে হবে।  

 

এসএম নাজের হোসাইন বলেন, টক অব দ্যা কান্ট্রি হচ্ছে-৬০ টাকা হয়েছে আলু। চালের দাম বেশি। পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির পর খাতুনগঞ্জে অভিযান চালালো, পরদিন আড়তে বিক্রি বন্ধ করে দিলেন ব্যবসায়ীরা।  

 

আইন বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, বিএসটিআই সম্প্রতি কিছু অভিযান চালিয়েছে। আমরা বলছি, বাজার তদারকি দৃশ্যমান করতে হবে। সব দোকান, বাজার, কারখানা তদারকির আওতায় আনতে হবে। 

 

বিএসটিআই চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সেলিম রেজা বলেন, শিল্পোন্নয়ন ছাড়া দেশের রফতানি আয় বাড়ানো সম্ভব নয়। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের বেশিরভাগ আমদানি-রফতানি হয়ে থাকে। আমদানি-রফতানি সহজতর করতে বিএসটিআই ল্যাবের মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।  

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ফয়েজ উল্লাহ বলেন, বিএসটিআই অনুমোদিত ডিজিটাল স্কেলে ৩ কেজি পণ্যের মধ্যে ২ কেজি দিচ্ছে। এরা সংখ্যায় অল্প। শুধু আইন নয়, সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। বাজারে ডায়িং কালার পাই। সেই রং খাবারে মিশিয়ে ভালো খাবার দূষিত করে খাচ্ছি।

 

 

 

 

 

 

চট্টগ্রাম


শেয়ার