বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক চেতনার স্বাধীন দেশকে ধ্বংসের অপচেষ্টা করা হয়েছে





শেয়ার

দেশবিদেশ২৪ডেস্ক: তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, যে অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভিত্তিতে লক্ষ শহীদের রক্তস্রোতের বিনিময়ে বাংলাদেশে স্বাধীন হয়েছিল, ৭৫ এর ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে সেটা ধ্বংসের অপচেষ্টা করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, রাষ্ট্রকে উল্টো পথে হাঁটানোর চেষ্টা করা হয়। দীর্ঘ ২১ বছর রাষ্ট্র উল্টো পথে হেঁটেছে। এরপর ৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর যে চেতনার ভিত্তিতে রাষ্ট্র রচিত হয়েছে সেই চেতনাগুলোকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করেছে।

আজ শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট কর্তৃক দুঃস্থ ও মন্দিরের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এ জেড এম শরীফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মফিজুর রহমান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বাবুল চন্দ্র শর্মা, উত্তম কুমার শর্মা, চট্টগ্রাম জেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্যামল কুমার পালিত, সাধারন সম্পাদক অসীম কুমার দেব প্রমূখ।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান মুসলিম সবার মিলিত রক্তস্রোতের বিনিময়ে এই দেশের অভ্যুদয় হয়েছে। দেশ বিভাগ হয়েছিল সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে। আমরা দেশ বিভাগের সময় পাকিস্তান রাষ্ট্র পেয়েছিলাম সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র। যেখানে ধর্মীয় পরিচয়টাকে মুখ্য হিসেবে গণ্য করা হতো। কিন্তু আমরা বাঙ্গালীদের আবহমানকাল ধরে লালিত সংস্কৃতি হচ্ছে আমাদের কাছে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়। আমাদের কাছে বাঙালি পরিচয় হচ্ছে মুখ্য।

তিনি বলেন, যখন জাতি দেখতে পেলো ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য করতে গিয়ে বাঙালি পরিচয়ের ওপর আঘাত আসছে, বাঙালির কৃষ্টি-সংস্কৃতির উপর আঘাত আসছে, বাংলা ভাষার উপর আঘাত আসছে, তখন সেই সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে জাতির পিতার নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও স্বাধীনতার যুদ্ধের মধ্য দিয়ে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সম্মিলিত রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়েছিল। 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই রাষ্ট্রের ধর্ম যার যার, উৎসব কিন্তু সবার, এই শ্লোগানে দেশের মানুষ বিশ্বাস করে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই নীতিতে বিশ্বাস করেন, সে কারণে তিনি এ কথা সব সময় বলেন। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, দেশে যখন পূজা উৎসব হয়, তখন সেটা শুধু হিন্দু ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনা, মুসলমান-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ সবার মাঝে সে উৎসবের আনন্দ সঞ্চারিত হয়। আবার দেশে যখন ঈদ উৎসব হয় সে আনন্দ শুধু মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনা। একইভাবে যখন প্রবারণা পূর্ণিমা হয় তখন ফানুস উড়ানোর উৎসব শুধু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকেনা। এটিই হচ্ছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সৌন্দর্য। এটাই হচ্ছে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। কিন্তু এখানে মাঝে-মধ্যে সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। যেটি আমাদের সরকার কঠোর হস্তে দমন করতে বদ্ধপরিকর। 

তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে শত্রুর সম্পত্তি আইন করে একটি রাষ্ট্রের ১০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে যখন শত্রু আখ্যায়িত করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই আইনের পরিবর্তন হয়েছে। এই আইনের বেড়াজালে যেভাবে একটি সম্প্রদায়কে হয়রানি করার চেষ্টা করা হয়েছে, তাদের সহায় সম্পত্তি অনেক সময় বেহাত হয়েছে, অথবা বেহাত করার অপচেষ্টা করা হতো, সেটি থেকে রক্ষা এবং যেগুলো বেহাত হয়ে গেছে সেগুলোকে ফেরত আনার লক্ষে আইন প্রণয়ন করা হয়, আইন সংশোধন করা হয় এবং প্রসিকিউটর নিয়োগ করা হয়। অনেকেই ইতিমধ্যে এর সুফল পেয়েছে। 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সব সম্প্রদায় যেভাবে একযোগে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে, সবাই মিলে একযোগে আমাদের দেশকে গড়তে হবে, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। এখানেই হচ্ছে পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের পার্থক্য। পাকিস্তানের প্রায় ৯৮ শতাংশ মুসলমান, আবার সেখানে শিয়া-সুন্নি দাঙ্গা হয়। শিয়াদের মসজিদে বোমা হয়, সুন্নিদের মসজিদে বোমা হয়। সেখানে রাষ্ট্র আগায় না। রাষ্ট্র আগাতে পারেনি, না হলে ৫০ বছরে পাকিস্তান রাষ্ট্র একাত্তরের সময় আমাদের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে ছিল, মাথাপিছু উপার্জন বাংলাদেশের চেয়ে দ্বিগুণ ছিল তখন। এখন সবক্ষেত্রে পাকিস্তান পিছিয়ে।

 

চট্টগ্রাম


শেয়ার