‘বাংলাদেশে টেস্ট ম্যাচ দেখে কয়জন’ প্রশ্ন সাকিবের





শেয়ার

দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শোচনীয় সিরিজ হার। দীর্ঘদিন ধরে টেস্ট খেলুড়ে দলের তকমা নিয়ে ঘুরলেও টাইগারদের উন্নতির অন্তরায় কী? প্রায়শই খেলোয়াড়দের টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে অনীহার গুঞ্জন ভেসে বেড়ায়। ক্রিকেটারদের অনাগ্রহই কি বাংলাদেশের এমন দুর্দশার কারণ? সাংবাদিকদের এসব প্রশ্নের যুতসই জবাব না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেন সাকিব। তিনি উল্টো সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান ‘বাংলাদেশে টেস্ট ম্যাচ দেখে কয়জন?’

সেন্ট লুসিয়ায় শততম টেস্ট ম্যাচ হারের স্বাদ নিয়ে সাকিব বলেন, ‘খেলোয়াড়দের এখানে খুব বেশি দোষ দেয়াটা ঠিক হবে না। শুধু খেলোয়াড়দেরই দোষ দিলে হবে না। আমাদের দেশের সিস্টেমটাই কিন্তু এমন। আপনি কবে দেখেছেন বাংলাদেশে ৩০ হাজার দর্শক টেস্ট ম্যাচ দেখভে বা  ২৫ হাজার দর্শক মাঠে এসেছে টেস্ট দেখতে?’ ম্যাচ শেষে সংবাদ মাধ্যমকে সাকিব বলেন, ‘ইংল্যান্ডে তো প্রতি ম্যাচে এমন সংখ্যক দর্শক থাকে। টেস্টের সংস্কৃতিটাই আমাদের দেশে ছিল না কখনো, এখনো নেই।’ টেস্টে ভালো করতে সবাই মিলে এই সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক বলেন, ‘টেস্ট সংস্কৃতি নেই বলে যে হবেও না, সেটাও কিন্তু নয়। এই জিনিসটা পরিবর্তন করাই আমাদের বড় দায়িত্ব। সবাই মিলে যদি একসঙ্গে পরিকল্পনা করে আগানো যায় তাহলেই হয়তো কিছু সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

নইলে আসলে খুব বেশি দূর আগানো সম্ভব হবে না।’ বাংলাদেশে টেস্ট ক্রিকেটকে যথার্থ মূল্যায়ন করা হয় না জানিয়ে সাকিব বলেন, ‘আমার যে টেস্ট ক্রিকেটকে খুব বেশি মূল্যায়ন করি, তা নয়। হ্যাঁ, হতে পারে আমরা ভালো ফলাফল করিনি, এ কারণে মূল্যায়নও হয়নি। তবে একটার সঙ্গে আরেকটার সম্পর্ক আছে। একটার সঙ্গে আরেকটাকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাহলেই ভালো কিছু সম্ভব।’ 

 

আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে পরবর্তী টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে সেই সিরিজটিতে ভালো ফল পেতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা কামনা করেন সাকিব বলেন, ‘এই বিরতির মধ্যে যারা টেস্ট খেলতে আগ্রহী তারা হয়তো যার যার জায়গা থেকে উন্নতি করার চেষ্টা করবে। উন্নতি ছাড়া আর কোনো পথ নেই। আমাদের এমন কোনো সেটআপও নেই যাদের আনলে আমরা টেস্টে ভালো করে ফেলবো। যারা আছি বা বাইরে আর যে দুই-চারজন আছে, সবাই মিলে যদি একসঙ্গে পরিকল্পনা করে আগাতে পারি তাহলেই ভালো কিছু সম্ভব হবে। তা না হলে এতদিন ধরে যা হয়ে আসছে তা থেকে খুব বেশি একটা পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’

টেস্টের ব্যর্থতা টি-টোয়েন্টিতে ভুলতে চান সাকিব
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত সিরিজটি থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তির খাতা শূন্য। ধবলধোলাই হওয়ার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিয়ে স্বপ্ন বুনছেন সাকিব আল হাসান। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। ২রা জুলাই শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সিরিজের আগে সাকিব বলেন, ‘যদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা চিন্তা করেন, তাহলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ এ সিরিজ। এরপর এশিয়া কাপ খেলবো, তার পরই বিশ্বকাপ। সে দিক থেকে সময় নেই। খুবই গুরুত্বপূর্ণ এটি (টি-টোয়েন্টি সিরিজ)।’ সাকিবের বিশ্বাস, ক্যারিবিয়ানে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভালো করলে তার ফল পাওয়া যাবে এশিয়া কাপেও। তিনি বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দলের সঙ্গে খেলাটা বড় চ্যালেঞ্জ। এখানে ভালো করতে পারলে শ্রীলঙ্কায় এশিয়া কাপে খুব ভালোভাবে কাজে আসবে। আমরা জানি এশিয়া কাপ খুবই কঠিন হবে, যেখানে ভারত-পাকিস্তান (খেলবে), এমনকি আফগানিস্তানও এশিয়ার ভালো একটা দল। শ্রীলঙ্কাও ধারাবাহিকভাবে খুবই ভালো খেলছে।’

টেস্টে ব্যর্থতা সঙ্গী হলেও সীমিত ওভারের খেলায় সমীহ জাগানিয়া প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। র‌্যাঙ্কিংয়েও সেরা দশে রয়েছে টাইগাররা। তাই টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলেও টি-টোয়েন্টি নিয়ে স্বপ্ন দেখতেই পারে বাংলাদেশ। সাকিব বলেন, ‘অনেক উন্নতির জায়গা রয়েছে। দলগতভাবে খেলতে পারলে আমাদের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জেতা সম্ভব।’

২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টি-টোয়েন্টিতে সুখস্মৃতি রয়েছে বাংলাদেশের। সেবার সিরিজটি জিতেছিল টাইগার বাহিনী। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে বেশ পিছিয়ে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দল। টি-টোয়েন্টিতে সবশেষ ১০ ম্যাচের ৯টিতেই হার সঙ্গী হয়েছে লাল-সবুজদের। বিপরীতে ভারতের মাঠে সবশেষ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলেও তার আগে ঘরের মাটিতে ইংল্যান্ডকে সিরিজ হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

 

খেলাধুলা


শেয়ার