আজকের সর্বশেষ

সভাপতি- খায়রুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক- কেফায়েতুল্লাহ কায়সার। জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা চট্টগ্রাম বিভাগের নতুন কমিটি

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হলেন চট্টগ্রামের সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম, ও যুগ্ম মহাসচিব কেফায়েতুল্লাহ কায়সার

চ্যানেল কৃষি সন্মাননা পেলেন লেখক ও সংগঠক শামছুল আরেফিন শাকিল

চ্যানেল কৃষি সন্মাননা পেলেন নির্মাতা ও অভিনেতা মোশারফ ভূঁইয়া পলাশ

আইএফআইসি ব্যাংক শিবের হাট উপশাখা উদ্বোধন

জাপান বুঝিয়ে দিলো ফুটবল শুধু পশ্চিমের নয়

বাকবিশিস'র ১০ জাতীয় সম্মেলন সম্পন্ন : ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার সভাপতি, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

অধ্যক্ষ শিমুল বড়ুয়া বাকবিশিস'র কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত


জন্মহার কমেছে





শেয়ার

বাংলাদেশে ২০২২ সালের জনশুমারির প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে দেশে জন্মহার কমেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৩০ বছর ধরেই বাংলাদেশে জন্মহার ধারাবাহিকভাবে কমছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের জন্মহার ছিল ২ দশমিক ১৭ শতাংশ, যেটি ২০০১ সালে নেমে আসে ১ দশমিক ৫৮ শতাংশে। এরপর ২০১১ সালে আদমশুমারির প্রতিবেদনে দেখা যায়, জন্ম হার আরও কমে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ হয়েছে। সবশেষ ২০২২ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী এই হার ১ দশমিক ২২ শতাংশ। জন্মহার কমলেও বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই হার বাংলাদেশের জন্য ভালো খবর নাকি খারাপ?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের জন্য এটি এখন ভালো খবর হিসেবেই দেখা যেতে পারে। আমরা এখন যে অবস্থায় আছি সেটি আদর্শ অবস্থা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, একটা দেশ যখন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে অগ্রসর হয় এবং নারীর শিক্ষা, ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়ে তখন এ ধরনের পরিস্থিতির তৈরি হয়। এর সঙ্গে নগরায়ণের একটি বড় ভূমিকা আছে। এর কিছু ভবিষ্যৎ ঝুঁকিও রয়েছে।

 

জাতিসংঘ বলছে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের জনসংখ্যা হবে ২০ কোটির বেশি। বাংলাদেশে বর্তমানে ১৫ থেকে ৬৪ বছর পর্যন্ত জনগোষ্ঠী ৬৫ দশমিক ৫১ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জনগোষ্ঠী বেশি হওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল থাকবে বেশি। তাদের ব্যবহার করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা সম্ভব। বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি ইতিবাচক এই অর্থে যে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে পারবে। জন্ম হার বাড়তে থাকলে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানো সম্ভব হতো না। বেকারত্ব ভয়াবহ আকার ধারণ করত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে বর্তমানে যে বেকারত্ব রয়েছে সেটি কমে আসবে যদি জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া অব্যাহত থাকে। আগামী ১৭ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে সে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করবে। কারণ তখন ৬৫ বছরের বেশি জনগোষ্ঠী আরও বেড়ে যাবে। অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, ২০৩৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য অনুকূল পরিবেশ থাকবে। এরপর প্রবীণ জনগোষ্ঠী বাড়তে থাকবে।

তিনি বলেন, এই জনশুমারিতে দেখা যাচ্ছে শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সী জনসংখ্যা কমছে এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে জনসংখ্যা বাড়ছে।

বাংলাদেশে জন্মহার যেমন কমছে তেমনি মৃত্যুহারও কমেছে। জন্ম ও মৃত্যুহার কমে গেলে তখন বয়স কাঠামোতে পরিবর্তন আসতে শুরু করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এ এস এম আতিকুর রহমান বলেন, ২০২২ সালের জনশুমারিতে বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটো দিকই রয়েছে। ২০২২ সালের জনশুমারিতে দেখা যাচ্ছে, ৬৫ বছর থেকে শুরু করে তার ঊর্ধ্বে জনসংখ্যা ৫.৮৮ শতাংশ। এটি যদি ৭ শতাংশে পৌঁছে যায় তখন সেটিকে ‘বয়স্কদের সমাজ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

অধ্যাপক আতিকুর রহমান বলেন, ২০৬০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রবীণ জনসংখ্যা হবে ৫ কোটির মতো। এ পরিস্থিতি হলে দেশে কর্মক্ষম লোকের ঘাটতি দেখা দেবে এবং দেশ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়বে বলে তিনি মনে করেন।

জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন্মহার কমলেও ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের জনসংখ্যা হবে ২০ কোটি ৪০ লাখ। ২০৫৭ সালে জনসংখ্যা হবে ২০ কোটি ৭০ লাখ।

অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, ২০৫৭ থেকে ২০৬৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জনসংখ্যা স্থিতিশীল থাকবে। কারণ তখন জন্ম ও মৃত্যুহার সমান হবে। এরপরে মোট জনসংখ্যা আস্তে আস্তে কমতে থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমতে শুরু করলে সেটি বাড়ানো খুব কঠিন কাজ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সের অধ্যাপক মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম বলেন, আমি চীনের বেইজিং-এ ছিলাম চার বছর। ওখানে দেখা যাচ্ছে ওরা জন্মহার বাড়াতে চাইলেও আর বাড়াতে পারছে না।

 

এক্সক্লুসিভ


শেয়ার