আজকের সর্বশেষ

সভাপতি- খায়রুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক- কেফায়েতুল্লাহ কায়সার। জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা চট্টগ্রাম বিভাগের নতুন কমিটি

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হলেন চট্টগ্রামের সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম, ও যুগ্ম মহাসচিব কেফায়েতুল্লাহ কায়সার

চ্যানেল কৃষি সন্মাননা পেলেন লেখক ও সংগঠক শামছুল আরেফিন শাকিল

চ্যানেল কৃষি সন্মাননা পেলেন নির্মাতা ও অভিনেতা মোশারফ ভূঁইয়া পলাশ

আইএফআইসি ব্যাংক শিবের হাট উপশাখা উদ্বোধন

জাপান বুঝিয়ে দিলো ফুটবল শুধু পশ্চিমের নয়

বাকবিশিস'র ১০ জাতীয় সম্মেলন সম্পন্ন : ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার সভাপতি, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

অধ্যক্ষ শিমুল বড়ুয়া বাকবিশিস'র কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত


সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে আড্ডা-গান-স্মৃতিচারণে মাতলেন সাবেক জাবিয়ানরা





শেয়ার

জমজমাট আয়োজনের মাধ্যমে লন্ডনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তিতে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রছাত্রীদের আয়োজনে রোববার রিজেন্টলেক বেঙ্কুইটিং হলে এ অনুষ্ঠানটি মিলনমেলায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের গোলাপ ফুল দিয়ে বরণ করে নেন সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির সদস্যরা। পরে রেজিস্টার্ড সদস্যদের হাতে আইডি কার্ড ও অন্যান্য উপহারসামগ্রী তুলে দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে একে একে আসতে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম ব্যাচ থেকে শুরু করে ৪৬তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শুধান ‘বন্ধু কি খবর বল? কতদিন দেখা হয়নি!’ ওয়েলকাম ড্রিংকের সঙ্গে হাল্কা নাশতা আর চা কফি খেয়েই আড্ডায় মেতে ওঠেন তারা। রং-বেরঙের বেলুন উড়ানোর মধ্যদিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শতশত রঙ্গিন বেলুন রাঙিয়ে তোলে উজ্জ্বল নীলাকাশ। বিলেতের মাটিতে এ যেনো এক টুকরো জাহাঙ্গীরনগর, মুক্তমঞ্চের আবহ।  

সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক জহির মুহাম্মদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব পারভেজ মল্লিকের সঞ্চালনায় শুরু হয় অনুষ্ঠানের আলোচনা ও স্মৃতিচারণ। ক্যাম্পাসের মজার স্মৃতি সবাইকে নিয়ে যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ ক্যাম্পাসে ।

উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটের মেয়র লুৎফর রহমান।

বিজ্ঞাপন

নির্দলীয় জনপ্রিয় এই মেয়রের উপস্থিতি উৎসবে ভিন্ন একটি মাত্রা এনে দেয়। উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে মেয়র লুৎফর রহমানকে সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবের স্মারক উপহার দেয়া হয়। এসময় আরও উপস্থিত সাবেক ডেপুটি মেয়র অহিদ আহমেদ।  

 

সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম ব্যাচের ছাত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ খিজিরকে। এছাড়াও বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয় আইন টিভির কর্ণধার আতাউল্লাহ ফারুক এবং ইফতি আহমেদকে। স্পন্সরদের হাতে উৎসবের স্মারক তুলে দেন মো. ইকবাল হোসেন, আশরাফুন্নেসা রোজী, সৈয়দ শাহিন আহমেদ, আসমা শাহ, আবদুর রহমান মিঠু, সিনা আকন্দ, হাবিবে আলম চৌধুরী, ওয়াকারুল আমিন রনি, সিকান্দার আলী সিকো, আনিসুর রহমান, ড. আসমা পারভিন মুক্তা, চৌধুরী নিয়াজ মাহমুদ লিঙ্কন।

দুপুরে চলে ভুরিভোজ। খাওয়া-দাওয়া সেরে আবারও চলে আড্ডা। বিকালে, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহবুবা জেবিন এবং ড. সাবের শাহ্-এর প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় শুরু হয় জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রথমেই আলিম আল রাজী তার গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। এরপর লন্ডনের ক্ষুদে সেনসেশন আরওয়া রশিদ দেশের গান এবং লালনের গান গেয়ে অতিথিদের মন জয় করে নেন। তার কচি কণ্ঠের গাওয়া ‘বাড়ীর পাশে আরশিনগর’ গানটি সবাইকে নিয়ে যায় জাবিয়ানদের আরশিনগর জাহাঙ্গীরনগরে।

এরপর মঞ্চে আসেন ক্লোজআপ তারকা রাশেদ উদ্দিন। রাশেদ তার কণ্ঠের জাদুতে আবিষ্ট করে রাখেন সবাইকে। তার গানে দর্শকরা একাধারে নেচেছেন, আবার ‘মা’ গান শুনে অনেকে কেঁদেছেন। এনি জামান, মাহবুবা জেবিন, রুমানা তুলি এবং জাকিয়া তাসনিম-এর দলীয় নৃত্য ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।

এরপর মঞ্চ মাতাতে আসেন শারমিন দিপু। দিপুর জমজমাট পরিবেশনা সবাইকে উজ্জীবিত করে। মঞ্চ থেকে নেমে এসে সবার সঙ্গে নাচে যোগ দেন দিপু। চলতে থাকে সমবেত গান আর নাচ। সবশেষে মঞ্চে আসেন লন্ডনের জেমস খ্যাত রাজ হাসান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে পরিণত হয় ‘চল বদলে যাই’, মীরাবাঈ গানের মূর্ছনায়। রাজের পরিবেশনার মাধ্যমে শেষ হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্ব।

এরপর উপদেষ্টা মো. শহীদুল ইসলামের পরিচালনায় শুরু হয় আগত আপু এবং ভাবিদের অংশগ্রহণে ‘মিউজিক্যাল পিলো পাসিং’। টানটান উত্তেজনার মধ্যদিয়ে প্রায় অর্ধশত অংশগ্রহণকারীর মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বারের মতো অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হন মুন্নি রহমান। অংশগ্রহণকারী সেরা পাঁচজনকে পুরস্কৃত করা হয়। এরপর উপস্থিত শিশু এবং র‌্যাফেল ড্র-এর মাধ্যমে ১০ জন বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। এভাবেই হাসি আনন্দের মধ্যদিয়ে বিদায়ের সুর বেজে উঠে। শেষ হয়েও যেন হয় না শেষ। শেষ হয় না কথার মালা। শেষ হয় না সেলফি তোলা।  

‘চলেছি সবাই দূর দিগন্ত পেরিয়ে, অপার কোন এক শান্তির খুঁজে’। আমরা কি খুঁজে পেয়েছি সেই শান্তি দুর পরবাসে? জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তিতে, যুক্তরাজ্যে সম্মিলিতভাবে সুবর্ণজয়ন্তী পালনের মাধ্যমে সাবেক শিক্ষার্থীরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন, সকলে মিলে বিলেতে একটি জাহাঙ্গীরনগর পরিবার গড়ে তুলতে।

উৎসবে পরিবারসহ আরও অংশগ্রহণ করেন মো. সিদ্দিক, ডক্টর মাধু আচার্য, কামাল মুস্তাফা, একেএম রাকিবুদ্দিন শাহিন, রুবিনা আক্তার রেখা, মো. নজরুল ইসলাম, নাসিমা সুলতানা চৌধুরী, হুমায়ুন কবির, মো. আসাদ উল্লাহ, ইন্দ্রজিত সাহা, সুফিয়া কমর বেবি, মো. নুর হাসান মামুন টুটুল, আশরাফুল আলম, মো. নিয়াজ উদ্দিন বাবু, মতিয়ার রহমান, মো. আখতার আজাদ পাপ্পু, ড. শাকিল আহমেদ, হাফিজা আক্তার, মনির মোহাম্মদ জামান, সাঈদ উদ্দিন আহমেদ, মুকিত শামস জয়, মো. আলমগীর হোসেন বিদ্যুৎ, ড. নজরুল ইসলাম বিদ্যুৎ, ফারহানা ইয়াসমিন চমন, মোরশেদ ঠাকুর, হোসনে তৌহিদ পাভেল, কামরুল হাসান মঞ্জু, মো. শফিউল আজম সুমন, সৈয়দ ইফতেখার ইফতি, মুসফিকুর রহমান ভুঁইয়া জেম, আহমেদ হাসান, কাজী মহিবুল ইসলাম লিমন, আজিজুল করীম লিপু, সাবিহা সুলতানা, সোনিয়া করীম, ড. মিজানুর রহমান জামী, বুলবুল আহমেদ, সজীব ভুইয়া, মাহবুবা আক্তার দীপা, নাজমুস সাকিব, মো. শফিকুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ, মো. রায়হানুর রহমান, রানা নাজিমুদ্দিন, আহসানুল চৌধুরী নাহিয়ান, আলী মোহাম্মদ, মো. সাইদ হোসেন তুষার, তানজিম মাহবুব, মো. হাসান অয়নসহ আরও অনেকে।

 

আন্তর্জাতিক


শেয়ার