আজকের সর্বশেষ

সভাপতি- খায়রুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক- কেফায়েতুল্লাহ কায়সার। জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা চট্টগ্রাম বিভাগের নতুন কমিটি

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হলেন চট্টগ্রামের সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম, ও যুগ্ম মহাসচিব কেফায়েতুল্লাহ কায়সার

চ্যানেল কৃষি সন্মাননা পেলেন লেখক ও সংগঠক শামছুল আরেফিন শাকিল

চ্যানেল কৃষি সন্মাননা পেলেন নির্মাতা ও অভিনেতা মোশারফ ভূঁইয়া পলাশ

আইএফআইসি ব্যাংক শিবের হাট উপশাখা উদ্বোধন

জাপান বুঝিয়ে দিলো ফুটবল শুধু পশ্চিমের নয়

বাকবিশিস'র ১০ জাতীয় সম্মেলন সম্পন্ন : ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার সভাপতি, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

অধ্যক্ষ শিমুল বড়ুয়া বাকবিশিস'র কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত


মধ্যস্বত্বভোগীদের পেটে যাচ্ছে ডিমের কুসুম





শেয়ার

সম্প্রতি দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানোর পর সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। এতে গরিবের আমিষ খ্যাত স্বল্পমূল্যের ডিমও বাদ যায়নি। চাল, ডাল, তেলের সিন্ডিকেট যেমন বাজার নিয়ন্ত্রণ করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়; ঠিক তেমনি সিন্ডিকেট চক্র ডিমের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ডিমের এই দাম বৃদ্ধিতে আড়তদার, পাইকার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কয়েকটি চক্র জড়িত। এর ফলে এখন অনেক পরিবার ডিম কিনে খাওয়ারও ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। ডিমের লাগামহীন দামে ব্যয় বৃদ্ধিতে দুশ্চিন্তায় সীমিত আয়ের মানুষ। রাজধানীর অলিগলির খুচরা বাজারগুলোতে এক হালি ডিম ৫৫ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল। ফলে ভোক্তাকে একটি ডিম কিনতে খরচ করতে হয়েছিল সাড়ে ১৩ থেকে ১৪ টাকা পর্যন্ত। তবে গত বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্‌শি দাম কমানোর স্বার্থে প্রয়োজন হলে ডিম আমদানি করার কথা বলেন। এমন বক্তব্যের পর একদিনের ব্যবধানে ডিমের দাম হালিতে ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা কমেছে।

গতকাল বাজারে লাল ও সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে হালিপ্রতি ৫০ টাকা করে, যা বুধবার বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকা হালিতে। সেই হিসাবে খুচরা বাজারে একদিনের ব্যবধানে হালিপ্রতি ডিমের দাম কমেছে ৫ থেকে ১০ টাকা। তবে যারা ডজন কিংবা এক কেস ডিম কিনছেন তারা আরও কম দামে কিনতে পারছেন। এক্ষেত্রে ডজনে ৫ থেকে ১০ টাকা কমে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় কিনতে পারছেন তারা। 

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাইকারি বাজার থেকে কিনে ভোক্তা পর্যন্ত দুই হাত বদল হয়। আর খামার থেকে ভোক্তা পর্যন্ত ডিম পৌঁছতে বদল হয় ৪ হাত। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন খামার বা ডিলারের কাছ থেকে সরাসরি ডিম কিনে আনেন। পাইকারি বাজার থেকে ডিম কিনে ছোট ভ্যানে করে তা সরবরাহকারীরা বিক্রি করেন বাজার বা পাড়া মহল্লার বড় দোকানগুলোতে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে যে লাল ডিমের ডজন ১২০ থেকে ১২৫ টাকা ছিল। সেই ডিমের ডজন ৪০ থেকে ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। হাঁসের ডিম প্রতি ডজন ২২০ থেকে ২৩০ টাকা ও দেশি মুরগির ডিম বিক্রি হয়েছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায়। তেজগাঁও পাইকারি বাজারে গত বুধবার ১০০ পিস ডিম বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ১২০ টাকা দরে। পাইকারি বাজারেই একটি ডিমের দাম দাঁড়ায় ১১ টাকা ২০ পয়সা। অথচ জ্বালানির দাম বাড়ার আগে পাইকারিতে প্রতিটি ডিমের দর ছিল ৮ টাকা ৮০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৯ টাকা। রাজধানীর তেজগঁওয়ের পাইকারি ডিমের ব্যবসায়ী মুন্সীগঞ্জ ডিমের আড়তের স্বত্বাধিকারী মঞ্জুর হোসেন বলেন, ডিমের দাম গত কয়েক দিনের তুলনায় অনেকটাই কমেছে, সামনের দিনগুলোতে আরও কমবে। গত তিনদিনে ডিমের দাম প্রতিটিতে প্রায় দেড় টাকা কমেছে।  

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিমের দাম এলাকা ও সময় ভেদে পরিবর্তন হতে থাকে। মধ্যস্বত্বভোগীদের কয়েকটি চক্র ফোনে ফোনে বিভিন্ন এলাকায় ডিমের দাম ঠিক করে দেয়। সে দামেই কেনাবেচা হয় ডিম। খামারিরা জানান, এমনও হয় যে, সকালে এক দাম আবার বিকালে আরেক দামে ডিম কেনেন পাইকার ও আড়তদাররা। সূত্র জানায়, মূলত ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণ করে একটি সিন্ডিকেট। এরাই ডিমের দাম নির্ধারণ করে দেয়। বিনিময়ে খামারিদের কাছ থেকে নেয় কমিশন। খামারিরা তাদের নির্ধারণ করা দামেই ডিম বিক্রি করেন। এই সিন্ডিকেট রাজধানীর টঙ্গী, বোর্ড বাজার, জয়দেবপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজীপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলায় ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে।  বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) সদস্য বিপিআইসিসি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, মধ্যস্বত্বভোগী আর সিন্ডিকেটের হাতে প্রান্তিক খামারিরা জিম্মি হয়ে আছে। সিন্ডিকেট চক্র সারা দেশে সক্রিয়। তারা ফোনে ফোনে মুরগির দাম ও ডিমের দাম নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। সেই দামে খামার থেকে মুরগি সংগ্রহ করে পাইকারদের সরবরাহ করছেন। এই সিন্ডিকেটের জাল না ভাঙলে বাজারে অস্থিরতা কমবে না, খামারিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মনে করে সংগঠনটি।  একাধিক খামারির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন মাসের ব্যবধানে পোল্ট্রি ফিডের দাম ৩২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় মুরগির দাম বাড়তি রয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে খামারি পর্যায়ে ব্রয়লার মুরগির দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। 

তাদের মতে, খামারি থেকে ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে দাম ৩০ টাকার বেশি বাড়ার কথা নয়। সেখানে দাম বাড়ছে ৫৫ টাকা। অর্থাৎ ৩ হাত বদলে অন্তত ২৫ টাকা অতিরিক্ত দাম বেড়ে যাচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, পোল্ট্রি ফিডের দাম বাড়ার কারণে নাকি খামারিরা ডিমের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে কয়েকদিনের মধ্যেই ডিমের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।  ডিম বিক্রেতা হোসেন আলী বলেন, ডিমের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমাদের প্রচুর পরিমাণে পুঁজি খাটাতে হচ্ছে ব্যবসায়। কিন্তু সেই তুলনায় আমাদের লাভ হচ্ছে না।  উদ্যোক্তারা জানান, মুরগির খাবারের দাম বৃদ্ধি ডিমের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা পোল্ট্রি ফিডের দাম ৩ হাজার ৩শ’ টাকা, সোনালি ফিড ৩ হাজার টাকা ও লেয়ার ফিড ২ হাজার ৭শ’ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে খামারিদের। এক বছরের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি পোল্ট্রি ফিডে ৯১০ টাকা, সোনালি ফিডে ৮২৫ টাকা, লেয়ার ফিডে বেড়েছে ৬৬৫ টাকা। দফায় দফায় ফিডের দাম বাড়ায় খামারিদের অনেকে ব্যবসায় আগ্রহ হারাচ্ছেন। এরমধ্যে বেড়েছে মুরগির ওষুধের দামও। উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজার দরের সামঞ্জস্য না থাকায় খামারিরা হতাশ। এতে উৎপাদনও কমেছে। এ ছাড়া জ্বালানির দাম বাড়ার পর ডিমের চালানে পরিবহন খরচও বাড়তি। খামারি সবুজ উদ্দিন বলেন, খামারে বিদ্যুৎ থাকে না। 

জেনারেটর দিয়ে আলোর ব্যবস্থা করা হয়। ডিজেলের দামও বাড়তি। মুরগির খাবারের দাম বেড়েছে, প্রোডাকশনও কম। অন্যদিকে বাজারে ডিমের চাহিদা অনেক। এসব কারণেই দামও বাড়তি। বিশেষত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরই সব জিনিসের মতো ডিমের দামও বেড়েছে। কনজ্যুমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে পণ্য বিতরণ, বিপণনে খরচ বাড়বে, পণ্যমূল্যও বাড়বে। তবে যতটা বাড়ার কথা তার থেকেও বেশি বাড়ানো হচ্ছে।

 

অর্থ ও বাণিজ্য


শেয়ার