আজকের সর্বশেষ


দাম বেড়েছে চালের, হতাশায় কৃষক এবং ক্রেতা





শেয়ার

করোনার সময়ে দেশের অর্থনীতি একটি সংকটকালীন সময় পার করছে। কিন্তু এর মধ্যেও থেমে নেই মজুতদার এবং মিলারদের অরাজকতা। দেশে রেকর্ড পরিমাণ বোরো ধান উৎপাদন হলেও কমেনি চালের দাম। বরং প্রতি কেজিতে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ২-৪ টাকা দরে। অন্যদিকে বাজারে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও কৃষক বলছেন, তারা আশানুরূপ চালের দাম পায়নি। ফলে আঙুল উঠছে মিলার এবং পাইকারি চাল ব্যবসায়ীদের দিকে।

গত সপ্তাহে রাজধানীর বাজারগুলোতে মোটা পাইজাম ও স্বর্ণা চাল প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৪৮ টাকা। দাম বেড়ে চলতি সপ্তাহে তা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকা। চলতি সপ্তাহে ২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৪-৬৫ টাকা কেজিতে, যা আগের সপ্তাহে ৫০-৫২ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। ভালোমানের ২৮ চাল ও নিম্নমানের নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৫৬-৬০ টাকা কেজিতে।

একইভাবে মাঝারি ধরনের নাজির ও মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৬-৬৮ টাকা কেজি। আর ভালোমানের চিকন নাজির ও মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৭২ টাকা কেজিতে। এ ছাড়া পাইজাম আতপ ৬৩ থেকে ৬৫ টাকা, পোলাওর চাল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার বিশ্লেষণের তথ্য বলছে, সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা চাল কেজিতে বেড়েছে দুই টাকা। এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ এবং গত বছরের তুলনায় মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ১৪ দশমিক ১২ শতাংশ বেশি দামে। এ ছাড়া মাঝারি মানের চালের দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি। আর চিকন চালের দাম বেড়েছে প্রায় ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। কৃষি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে মিলারদের হাতে ৮০ শতাংশ চাল রয়েছে। তারা কৃষকদের থেকে কম দামে চাল কিনে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করছে। এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘মোটা চালের কেজি ৫০ টাকা, যা গত কয়েক বছরেও হয়নি। চালের দাম এখন গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষের সক্ষমতার বাইরে। তার প্রমাণ হচ্ছে- টিসিবির ওপেন মার্কেট সেলের বিক্রয় কেন্দ্রগুলো। এই বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল কিনতে মানুষের লাইন। আয় কমে যাওয়া সরকারকে মানুষের পাশে থাকতে হবে। খোলা বাজারে কম দামে আরও বেশি চাল বিক্রি করতে হবে। যাতে ব্যবসায়ীদের ওপর একটা চাপ তৈরি হয়।’ সরকার বর্তমানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৩০ টাকা কেজি চাল বিক্রি করছে টিসিবির মাধ্যমে। বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে বেসরকারিভাবে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্কে প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ টন সেদ্ধ চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অর্থ ও বাণিজ্য


শেয়ার