আজকের সর্বশেষ


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মাছ চুরির অভিযোগ।





শেয়ার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে লোক পাঠিয়ে রাশেদুল হাসান রাসেল নামে এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মাছ চুরির অভিযোগ উঠেছে। রাশেদুল হাসান রাসেল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

রোববার (১১ এপ্রিল) দুপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্বদ্যিালয়ের সুইমিংপুল সংলগ্ন জলাশয়ে মাছ চুরি করার সময় ১০ জন আটক হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেফরুল হাসান চৌধুরীর উপস্থিতিতে তাদের আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছে মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জামসহ বড় জাল পাওয়া যায়।

আটককৃরা জিজ্ঞাসাবাদে বলেন, ‘জাবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হাসান রাসেল, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাম্প হাউজের ড্রাইভার কালাম এবং ফারুক নামে একজন বর্তমান ছাত্র তাদেরকে দৈনিক মজুরির বিনিময়ে মাছ ধরতে পাঠিয়েছে।’

এদিকে হাতেনাতে আটক হলেও পরে ছেড়ে দেয়া হয় তাদের।

এ বিষয়ে নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী সজল বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব ছিলো তাদেরকে ধরা। আমরা তাদেরকে ধরে এস্টেট অফিসে অবহিত করেছি। বাকিটা এস্টেট অফিসের দায়িত্ব। কালাম নামে একজন কর্মচারী এটার সাথে যুক্ত আছে। আমি এস্টেট শাখাকে এটি জানিয়েছি। এখন বাকি কাজ এস্টেট শাখার।’

আটককৃত জেলেদের কেন ছেড়ে দেয়া হলো এ বিষয়ে জানতে চাইলে এস্টেট অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, ‘কেন ছাড়া হয়েছে তা আমার জানা নেই। তারা সরাসরি নিরাপত্তা অফিসের আওতায়ই ছিলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাছ চুরির কাজে ব্যবহৃত জাল বা অন্যান্য সরঞ্জামাদি সাধারণত আমরা জমা রাখি। কিন্তু চুরি করে কেউ ধরা পড়লে সেটা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। নিরাপত্তা শাখা আমাদেরকে বিষয়টি অবহিত করেছে কিন্তু জাল বা অন্যান্য কিছু তারা আমাদের বুঝিয়ে দেয়নি।’

মাছ চুরির সাথে সম্পৃক্ত কর্মচারীর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা শাখা এ বিষয়ে আমাদের লিখিত দিলে আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিব। এখনও পর্যন্ত তারা লিখিত কিছু দেয়নি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘মাছ ধরতে কিছু লোক এসেছিলো তা জেনেছি। জবানবন্দি নিয়ে সিকিউরিটি অফিস তাদের ছেড়ে দিয়েছে। সিকিউরিটি অফিসকে বলা হয়েছে কোনো স্টাফ যদি এর সাথে যুক্ত থাকে তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।’

এদিকে ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রনেতা রাসেল বলেন, ‘আমি কালামকে জানি না, আটককৃতদের মধ্যে একজন ফোন দিলে বিষয়টি জানতে পারি। কিন্তু সাবেক ছাত্র হওয়াই সেখানে আমার কিছু করার ছিল না।’

অভিযুক্ত পাম্প হাউজের ড্রাইভার কালাম কালাম বলেন, ‘আমি রাসেলকে চিনি না, আজ সারাদিন নিকট আত্মীয়ের দাফন কাজে ব্যস্ত ছিলাম। ঘটনাটি শোনার পরে যারা আমার নাম বলেছিলো তাদের সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছে প্রশাসনের হাত থেকে বাঁচার জন্য আমার নাম বলেছে। ক্যাম্পাসের একজন স্টাফ হিসেবে এ কাজ করা আমার পক্ষে দুঃসাধ্য।’

সার্জিল/

অপরাধ


শেয়ার